
সংগৃহীত ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের ছবি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ও ভাইরাল হওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর একটি অশুভ প্রতিযোগিতা চলছে। সত্যের ভিত্তি ছাড়া অপপ্রচার রাজনীতির সংস্কৃতি হওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশের পর সেটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। অথচ ছবিটি হোয়াইট হাউস থেকেই প্রকাশ করা হয়েছে। পরে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসও ছবিটি শেয়ার করেছে। ফলে এ নিয়ে মিথ্যাচারের কারণ কী, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ও ট্রাম্পের সাক্ষাৎ এবং ছবি নিয়ে আরও ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, সত্য ও ন্যায্য বিষয়ে আলাদা করে ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে ছবিটি শেয়ার করাই যথেষ্ট স্পষ্টীকরণ।
তিনি বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, এটি স্বাভাবিক বিষয়। তাদের মধ্যে আন্তরিক ও স্বতঃস্ফূর্ত আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে সরকারপ্রধান কেন মিথ্যাচার করবেন, সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের একটি অনুষ্ঠান নিয়েও ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, একটি অনুষ্ঠানে বিতর্কিত এক ব্যক্তির সঙ্গে জুবাইদা রহমান মঞ্চ ভাগ করবেন—এমন তথ্য প্রচার করা হলেও পরে আয়োজকেরাই বিষয়টি ভুল বলে নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়েও অপপ্রচার হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, জাইমা রহমান নিজের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে জাতিসংঘে চাকরি পেয়েছেন। এর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ তার চাকরি সরকার দিয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক কনটেন্ট ক্রিয়েটারের চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপিকে নিয়েও অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন মাহদী আমিন। তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট স্থানটি অবৈধ হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবে ভাঙচুরের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গ্রেপ্তার, মামলা ও তদন্ত চলছে।
মাহদী আমিন বলেন, এসব ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভিউ ও প্রচার হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেসব তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার ন্যূনতম মিল নেই। সবার উচিত গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনার দিকে যাওয়া এবং সত্য ও ন্যায্য বিষয় তুলে ধরা।
বর্তমান সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
কুষ্টিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নামে কটূক্তির অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষককে থানায় নেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন এবং ওই শিক্ষককে পুলিশি পাহারায় সম্মানের সঙ্গে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, অশোভন বা অশালীন আচরণ না করে বাকস্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সবার সহাবস্থান, পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্যবোধ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মাহদী আমিন আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন ও জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা না গেলে তা হবে দুঃখজনক।
তিনি সব রাজনৈতিক দলের প্রতি পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্য বজায় রেখে গঠনমূলক গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চার আহ্বান জানান। বিরোধী দল মানেই সব বিষয়ে বিরোধিতা করা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সম্মান ও স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রসঙ্গ টেনে মাহদী আমিন বলেন, তারেক রহমান সেখানে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণমানুষের ক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি যে সম্মাননা পেয়েছেন, সেটি শুধু বিএনপির নয়, পুরো বাংলাদেশের সম্মান।
সবশেষে তিনি অযথা বিতর্ক ও অপপ্রচার থেকে বেরিয়ে এসে সুস্থ গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা, পারস্পরিক সম্মান এবং সত্য ও সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান।