
মাধবী,
বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, টার্কিশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে বসে জানালা দিয়ে আকাশ দেখছি, এ বৃষ্টি মেঘের কান্না, না কি শরৎ-হেমন্তের মিলনের মধুরিমা সেটা বোধগম্য হচ্ছে না। তবে, এ বৃষ্টিস্নাত আকাশ, এই আবীর ছড়ানো মেঘের রঙ, এই ভালোলাগার আবেশ আমার বেশ লাগছে! বাইরে রোমান্টিক হিমেল হাওয়া অনুভব করছি। কল্পনায় তুমি এলে, আমার মনে দীর্ঘ বিরতির অভিমান ভেঙে অনুরাগের দোতারা বেঁজে উঠলো, বুকের বাম পাঁজরে! মনে হলো একাকিত্বের বাসরে রংধনুর সাত রঙা দ্যূতি ছড়ালে তুমি। আলহামদুলিল্লাহ, এই তো জীবন, এটাই তো জীবন । মহান আল্লাহর নিকট অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতা। মাথার মধ্যে তোমাকে নিয়ে অ আ ক খ ভাবছি, সাত পাঁচ চিন্তায় তুমি আছো। হঠাৎ জানালার বাইরে তাকাতেই আন্দামান দ্বীপের কোল ঘেঁষে এক অন্য আকাশ দেখছি, বৃষ্টিহীন মেঘের শ্বেত শুভ্র ক্যানভাস। যতই পশ্চিমে যাচ্ছি, রোদেলা আকাশ পাচ্ছি। তোমাকে নিবিড় একাকীত্বে মনে পড়ছে, তোমার বিবর্ণ, ধূসর চাহনি মনে পড়ছে। সেই কবে থেকে, কখন থেকে কল্পনায় এসে তুমি এভাবে আমার মনে মনোময় হয়ে রয়ে গেলে তাই ভাবছি। এই মূহুর্তে ভীষণ একাকিত্বে তোমাকে নিয়ে নির্জনতায় হারিয়েছি, এই মুগ্ধতায় বাইরের প্রকৃতি দেখে জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতো বলতে ইচ্ছে করছে-
তবুও নদীর মানে শুভ্র শুশ্রূষার জল
সূর্য মানে আলো! এখনো নারীর মানে তুমি
কত রাধিকা ফুরালো !
তুমি হয়তো জানো না মাধবী, তোমার উপেক্ষা আর অবহেলার দহনে দগ্ধ হয়ে ইদানিং বেশ ব্যথাতুর হই, তোমাকেও দগ্ধ করতে ইচ্ছে হয়। কিন্ত সেটাও তো পারি না। কারণ, তোমাকে ব্যথা দিলে সে ব্যথা তো আমর হৃদয়েই আছড়ে পড়ে। কবি কাজী নজরুলের মতো করে আমারও বলতে ইচ্ছে করবে, ‘ব্যথা দেওয়ার কী যে ব্যথা, জানি আমি, জানে দেবতা।’
মাধবী,
হঠাৎ গান শুনতে ইচ্ছে করলো, প্লেনের ওয়াইফাই দিয়ে ইউটিউব চালাতেই পুলক বন্দোপাধ্যয়ের গীতিতে মান্নাদে’র কন্ঠে ভেসে এলো, ‘কত রাগিণীর ভুল ভাঙাতে, বাঁশি ভরে গেছে আঘাতে, প্রজাপতি পেল যে ব্যথা, কাঁটাবনে ফুল জাগাতে…!’ তারপরই হেমন্তের কন্ঠে সেই পুলক বাবুরই আরেকটি গান ভেসে এলো, ‘সবাই চলে গেছে, শুধু একটি মাধবী তুমি, এখনো তো ঠিকই ফুটে আছ কেন? কত আর চেয়ে চেয়ে দেখে যাবে আমায় চোখের জলের একাকার।’ এরপর মানবেন্দ্র মুখার্জির কন্ঠে ‘আমি এত যে তোমায় ভালোবেসেছি, তবু মনে হয়— এ যেন গো কিছু নয়, কেন আরো ভালোবেসে যেতে পারে না হৃদয়?’ গানগুলো শুনতে শুনতে হৃদয়ের অতল অতলে সুনামি হয়ে গেলো, চোখে জলোচ্ছ্বাস , মনে মনে ভাবছি, সবাই চলে গেছে, শুধু একটি মাধবী তুমি আমার কল্পনায় এসে কেনো কঙ্গো-রাইনের মতো ঢেউ তুলো! অথচ তুমি কতটা শান্ত, সৌম্য, সুউচ্চ গ্রীবা উঁচু করে আমার সামনে আসো।ঘুরেফিরে আসো। তখন ইচ্ছে করে তোমাকে অস্ফুটে বলি-
সোনার মেয়ে, তোমায় দিলাম ভুবন ডাঙ্গার হাসি!
তোমায় দিলাম মধ্য দিনের টিনের চালের বৃষ্টি রাশি..
আরো দিলাম রোদ্র ধোয়া সবুজ ছোয়া পাতার বাসি.!
শু ভ স কা ল!
(লেখাটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেওয়া)