
রংপুর বিভাগের সর্ববৃহৎ জেলা দিনাজপুর। ১৩টি উপজেলা,বিপুল জনসংখ্যা এবং বিস্তৃত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার এই জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সিভিল সার্জন কার্যালয়। অথচ জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কার্যালয়ের জন্য আজও নেই একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন।
মাত্র ৪টি কক্ষে পরিচালিত হচ্ছে দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম।ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজ,সভা,প্রশিক্ষণ,নথি সংরক্ষণ এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সহ সবকিছুতেই তৈরি হচ্ছে অবকাঠামোগত সংকট।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন DGHS-এর বর্তমান Facility Registry-তে দিনাজপুর সিভিল সার্জন অফিসকে পৃথক “District Level Office” এবং ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালকে পৃথক “District/General Hospital” হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে জেলার জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম,রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান,মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য,পুষ্টি কার্যক্রম, স্বাস্থ্য শিক্ষা,বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তদারকি,প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ স্বাস্থ্য খাতের নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
কিন্তু এত বিস্তৃত কার্যক্রমের বিপরীতে কার্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো অত্যন্ত সীমিত।পর্যাপ্ত অফিস কক্ষ,সভাকক্ষ,প্রশিক্ষণ কক্ষ,রেকর্ড সংরক্ষণাগার, অপেক্ষাগার,তথ্যসেবা কেন্দ্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাব দীর্ঘদিনের।
ফলে একদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে,অন্যদিকে প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে কার্যালয়ে আসা সাধারণ মানুষ,স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
১টি স্বতন্ত্র ভবনের দাবি এখন আর বিলাসিতা নয়! দিনাজপুরের স্বাস্থ্য প্রশাসনের কার্যক্রমের পরিধি বিবেচনায় একটি আধুনিক ও স্বতন্ত্র সিভিল সার্জন কার্যালয় ভবন এখন কোনো বিলাসী অবকাঠামো নয়;বরং প্রশাসনিক সক্ষমতা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। একটি পরিকল্পিত ভবনে সিভিল সার্জন,ডেপুটি সিভিল সার্জন,মেডিকেল অফিসার,প্রশাসনিক ও হিসাব শাখা,ইপিআই,রোগ নিয়ন্ত্রণ,স্বাস্থ্য শিক্ষা, স্টোর,রেকর্ড রুম,সভাকক্ষ,প্রশিক্ষণ কক্ষ এবং জনসাধারণের সেবা প্রদানের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা সম্ভব।
জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনকে আরও গতিশীল,আধুনিক ও জনবান্ধব করতে দিনাজপুরে স্বতন্ত্র সিভিল সার্জন কার্যালয় ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বিষয়টি আর দীর্ঘসূত্রিতায় না রেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে একটি বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
দিনাজপুরে পৃথক-পৃথক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো সম্প্রসারণ হলেও জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনের মূল কার্যালয় কেন এখনও পর্যাপ্ত অবকাঠামোবিহীন এ প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।
সিভিল সার্জন(ভারপ্রাপ্ত) ডা.গোলাম রসুল রাখি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ এবং দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বলে জানা গেছে।তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই।শুধুমাত্র ভবনের প্রকল্প অনুমোদন প্রয়োজন।
সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, দিনাজপুরে দ্রুত একটি স্বতন্ত্র,আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব সিভিল সার্জন কার্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
তাদের মতে,এটি শুধু একটি ভবন নির্মাণের দাবি নয়;এটি জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত প্রশাসনিক সেবা সহজ করার দাবি।