
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সিবিসি পরীক্ষা করানো নিয়ে বিরোধের জেরে রোগী ও তাঁর মাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত দালাল চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টারের সামনে এ ঘটনায় কানিজা আফরোজ (৪০) ও তাঁর ছেলে মো. তাজ (২৩) আহত হন।
আহত কানিজা আফরোজের মাথায় দুটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে সিবিসি পরীক্ষা করা হয় কি না জানতে ক্যাশ কাউন্টারে গেলে লিটন নামে এক ব্যক্তি তাঁদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন মিলে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে মারধর করেন।
কানিজা আফরোজের অভিযোগ, মঙ্গলবার চিকিৎসক তাঁকে সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। সরকারি হাসপাতালে ওই পরীক্ষা করা হয় কি না, তা জানতে বুধবার সকালে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টারে যান তিনি। এ সময় লিটন নামে এক ব্যক্তি তাঁদের কাছে এসে সরকারি হাসপাতালে সিবিসি পরীক্ষা করা হয় না বলে বাইরে থেকে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে কয়েকজন মিলে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন কানিজা আফরোজ।
তিনি বলেন, মারধরের সময় তাঁর মাথায় আঘাত লাগে। পরে হাসপাতালেই তাঁর মাথায় দুটি সেলাই দেওয়া হয়।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিটনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ঘটনার পর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেন। পরে আহত কানিজা আফরোজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য নিয়ে এর আগেও অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের পাশাপাশি দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবি জানানো হয়েছিল। এমন অভিযোগ শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জেই নয়। সরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক দালাল চক্রের বিরুদ্ধে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানমুখী করার অভিযোগ বিভিন্ন সময় সংবাদে এসেছে।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে ২০২৬ সালের মার্চে দেশব্যাপী অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালাল চক্রের কার্যক্রম বন্ধ করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং রোগীদের সরাসরি হাসপাতালের কর্মীদের কাছ থেকে সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও দালালদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনগত প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে বহির্বিভাগের রোগীদের জন্য এনআইডি বাধ্যতামূলকসহ হাসপাতালকে অটোমেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মাহবুব রহমান বলেন, হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় দালাল চক্রের সদস্যদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আহত ব্যক্তি আইনি সহায়তা চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।