প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২২ পিএম (ভিজিট : ৩১)

চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। আগামী কয়েক বছরেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির মোট গাড়ির ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি হতে পারে।
তবে দশকের শেষ দিকে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ার গতি কিছুটা কমে আসতে পারে। বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রীয় তেল কম্পানি সিনোপেকের এক গবেষক এ তথ্য জানিয়েছেন। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ার কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ চীনে তেলের চাহিদা কমতে পারে।
বিশেষ করে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির সংখ্যা কমে যাওয়ায় তেলের ব্যবহারেও বড় প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিনোপেকের অর্থনীতি ও উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির কারণে তেলের চাহিদা ৫ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন কমতে পারে। প্রতিদিনের হিসাবে এই পরিমাণ প্রায় ১২
সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক পেট্রোলিয়াম সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিনোপেকের অর্থনীতি ও উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফেয়ারি ওয়াং।
তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক গাড়ির কারণে তেলের যে চাহিদা কমছে, তা চীনে পরিশোধিত তেলজাত পণ্যের মোট চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশের সমান। ওয়াংয়ের হিসাবে, কমে যাওয়া তেলের চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এসেছে পেট্রোলচালিত গাড়ি থেকে। বাকি এক-তৃতীয়াংশ এসেছে ডিজেলচালিত গাড়ি থেকে। অর্থাৎ চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে তেলের চাহিদায়।
চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার। দেশটিতে গত জুলাইয়ে মোট গাড়ির ৬৫ শতাংশের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দেখা গেছে। গত বছর এই হার ছিল ৫৩ শতাংশ। আর ২০২০ সালে ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার কয়েক গুণ বেড়েছে। সিনোপেকের হিসাবে, এই পরিসংখ্যানে শুধু ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি নয়, বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়া যায় এমন হাইব্রিড গাড়িও ধরা হয়েছে। ফেয়ারি ওয়াং বলেন, চীনের গণপরিবহনে ব্যবহৃত প্রায় সব গাড়িই এখন বিদ্যুৎচালিত।