প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩১ পিএম (ভিজিট : ২৪)

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। খবর সিএনবিসির।
যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের অক্টোবরের ফিউচার ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৬ ডলারে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচারও ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ৪৪ ডলারে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানের হামলা সফলভাবে এড়িয়ে গেছে এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বৈশ্বিক পণ্যবাজার গবেষণার সহপ্রধান দান স্ট্রুইভেনের মতে, সাত মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের এই নতুন উত্তেজনা তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের ওপরে উঠে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে জাহাজে হামলা আরও বাড়লে এ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সিএনবিসির ‘স্কোয়াক বক্স এশিয়া’ অনুষ্ঠানে তেলের দাম ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্ট্রুইভেন বলেন, ‘এটি অবশ্যই সম্ভব।’
তবে গোল্ডম্যান স্যাকসের মূল পূর্বাভাস অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে। বিকল্প নৌপথ ব্যবহার এবং পরবর্তী সময়ে পাইপলাইন সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে উৎপাদকরা সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া বিঘ্নের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবে বলে প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে।
তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান স্ট্রুইভেন। তার মতে, আগামী কয়েক মাসে তেল রপ্তানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ব্যর্থ হলে ব্রেন্টের দাম ১২০ ডলারের ওপরে চলে যেতে পারে।
তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের ঘটনাগুলো আগামী কয়েক মাসে রপ্তানি স্থবির এবং ব্রেন্টের দাম ১২০ ডলারের বেশি হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ আমরা জাহাজে হামলার তীব্রতা ও বিস্তার দুটিই বাড়তে দেখছি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক অভিযান প্রায় এক মাস স্থগিত ছিল। ওই সময়ে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর সামরিক চাপের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের দিকে মনোযোগ দিয়েছিল। তবে গত মাসের শেষ দিকে আবারও দুই দেশের মধ্যে হামলা শুরু হয়।