প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৮ পিএম (ভিজিট : ১৬)

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে পান চাষ করে সাফলতা পেয়েছেন কৃষক রবিউল ইসলাম। রাজশাহীর মোহনপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় পানচাষিদের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে এ চাষে আগ্রহী হন তিনি। তাঁদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় গত বছর এক কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে পান বরজ গড়ে তোলেন। ভালো ফলন ও লাভ পাওয়ায় এবার বরজের পরিসর বাড়িয়ে ১০ কাঠা করেছেন রবিউল।
তিনি রাজশাহীর মোহনপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় স্থানীয় কয়েকজন পানচাষির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁদের বরজ দেখে পান চাষে আগ্রহ তৈরি হয়। পরে তাঁদের কাছ থেকে বরজ তৈরির পদ্ধতি ও পরিচর্যার বিষয়ে শেখেন এবং সহযোগিতা নিয়ে নিজ এলাকায় চাষ শুরু করেন।
পান চাষে লাভের বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রথমে বরজ তৈরি করতে খরচ হয় এবং পরিশ্রমও করতে হয়। তবে একবার বরজ তৈরি হলে কয়েক বছর পান পাওয়া যায়। ভালোভাবে পরিচর্যা করতে পারলে অন্য অনেক ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হতে পারে।”
রবিউলের বরজ দেখে পান চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও। কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “এখানে আমরা সাধারণত ধানসহ অন্য ফসল চাষ করা হয়। রবিউলের পান বরজ দেখে ভালো লাগছে। পান চাষে লাভ হলে আমরাও করার কথা ভাবছি।”
কৃষক সেতাউর রহমান বলেন, “পান বরজ করতে শুরুতে খরচ আছে। কিন্তু একবার বরজ হয়ে গেলে কয়েক বছর পান পাওয়া যায়। বাজারে দাম ভালো থাকলে কৃষক লাভবান হতে পারবেন।”
কৃষক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “রবিউলের বরজ দেখে অনেকেই পান চাষের কথা ভাবছেন। কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা পাওয়া গেলে অন্য কৃষকরাও এ চাষে আগ্রহী হতে পারেন।”
নাচোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালেহ আকরাম বলেন, “বরেন্দ্র এলাকায় পান চাষের সম্ভাবনা আছে। পান চাষে আগ্রহী কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষিতে ফসলের বৈচিত্র্য বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।”
স্থানীয় কৃষকদের মতে, পান চাষে রোগবালাই, সেচ ও বাজারদরের মতো কিছু ঝুঁকি থাকলেও সঠিক পরিচর্যা ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে বরেন্দ্র অঞ্চলে এ চাষের পরিসর আরও বাড়তে পারে।