| শিরোনাম: |

মানিকগঞ্জের ঘিওরে কালীগঙ্গা নদীর জেগে ওঠা চরে ভারি খননযন্ত্র (ড্রেজার) বসিয়ে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে সেখানে জোরপূর্বক বালু তোলা হচ্ছিল। বাধা দেওয়ার পর ৩০ থেকে ৩৫ জন একটি বালুবাহী বলগেটে এসে লোহার রড, পাইপ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে সাতজন আহত হয়েছেন।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে ঘটনাস্থলে আসার আহ্বান জানানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা হাতে সেখানে জড়ো হলে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের পূর্ব কুশন্ডা গ্রামের পাশে কালীগঙ্গা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জাহিদ নামের একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন- বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপট্টি গ্রামের আবুল কাশেম (৪৫), পলাশ মিয়া (২২), আবদুল মান্নান (৫০), নান্নু মিয়া (৪৫), মো. জাহিদ (২০) এবং বানিয়াজুড়ী ইউনিয়নের জাবরা গ্রামের মো. শামীম মুন্সি (৩৩) ও মো. রুবেল আলী (৩৫)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ব কুশন্ডা গ্রামের পাশে নদীতে জেগে ওঠা চরে তাদের কয়েকজনের জমি রয়েছে। সেখানে শক্তিশালী খননযন্ত্র বসিয়ে মাটি-বালু তোলার খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তারা স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে উত্তোলন বন্ধ করতে বললে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
আহতদের অভিযোগ, তাদের সাথে থাকা কয়েকজন কিশোর খননযন্ত্রে উঠে পড়লে বালু উত্তোলনের সাথে সংশ্লিষ্টরা তাদের আটক করে মারধর করেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা সেখান থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক একটি বালুবাহী বলগেটে করে এসে তাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে রড, পাইপ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হলে সাতজন আহত হন।
পরে হামলার খবর মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হলে আশপাশের গ্রামের নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। গ্রামবাসী জড়ো হওয়ার আগেই অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবুল কাশেম মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, কালীগঙ্গার তীরের ওই চরে আমাদের প্রায় ১১ বিঘা জমি রয়েছে। সেখানে ভুট্টা, তামাকসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করি। নদীর ভাঙন থেকে জমি রক্ষার জন্য বালু উত্তোলনে বাধা দিয়েছিলাম। এ কারণেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।
আহতরা অভিযোগ করেন, বানিয়াজুড়ী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পেচারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সম্রাট মিয়া, সিংজুড়ী গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ছাত্রদল নেতা আল-আমিন এবং সিংজুড়ী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার হোসেনসহ আরও ২৫ থেকে ৩০ জন হামলায় অংশ নেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা লোকমান হোসেন বলেন, চরের জমির মাটি আমরা কয়েকজন কিনে নিয়েছি। বৈধভাবে মাটি তোলার সময় স্থানীয় কিছু লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। তারা আমাদের কাছে চাঁদাও দাবি করে। পরে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
সাবেক যুবদল নেতা আল-আমিন বলেন, নদী থেকে মাটি কাটা হয়নি। শুধু নৌকা ভিড়েছিল। নিজেদের জায়গা ভরাটের জন্য মাটি আনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন মাঝি ও লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের তাড়া করে। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গেলে আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করা হয়। তবে কাউকে মারধর করা হয়নি।
ঘিওর থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।