
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের হাসপাতাল-সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ঘরের আড়ার সঙ্গে গরায় ওড়না প্যাচানো ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত জুই পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার পত্তাসী গ্রামের এনায়েত শরীফের মেয়ে। ঘটনা পর থেকে তার কথিত স্বামী পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। কথিত স্বামী মাসুদ খান শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামের শাহজাহান খানের ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে ফরিদ ফরাজীর বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ভাড়া বাসায় ওঠেন জুই ও মাসুদ খান। দুই কক্ষের টিনশেড ওই বাসার মাসিক ভাড়া ছিল ৩ হাজার ২০০ টাকা। সেখানে ওঠার পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো বলে জানান বাড়ির মালিক। এতে অন্য ভাড়াটিয়ারাও বিরক্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাদের বাসা ছেড়ে দিতে বলা হলেও তারা বাসা ছাড়েননি।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দাম্পত্য কলহ ও নির্যাতনের কারণে জুই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। মৃত্যুর দুই দিন আগেও তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। ওই সময় তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হলে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন।
জুইয়ের বড় বোন জুলি বেগম জানালেন, ১২-১৩ বছর আগে পারিবারিকভাবে শরণখোলার পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের মেনাজ হাওলাদারের ছেলে কুয়েতপ্রবাসী আনোয়ার হাওলাদারের সঙ্গে জুইয়ের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। তবে মাসুদের সঙ্গে জুইয়ের বিয়ের বিষয়ে তারা বিস্তারিত জানতেন না।
জুলি বেগম বলেন, আমার বোনকে মাসুদ খুব নির্যাতন করত বলে শুনেছি। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই দিন আগেও সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তখন তার মেয়েকে আমরা নিজেদের কাছে নিয়ে আসি। ঘটনার সময় মেয়েটি আমাদের কাছেই ছিল। এ ঘটনায় আমরা মামলা করব।
বাড়ির মালিক ফরিদ ফরাজী বলেন, গত ৫ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে বাসা খুঁজতে আসেন তারা (জুই ও মাসুদ)। তাদের সঙ্গে একটি মেয়েও ছিল। পরে বাসা পছন্দ হলে তারা ভাড়া নেন। এরপর থেকে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এতে অন্য ভাড়াটিয়ারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। তাদের বাসা ছেড়ে দিতে বলা হলেও তারা চলে যাননি। পরেতো এই দুর্ঘটনা ঘটলো।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাচানো অবস্থায় জুই নামের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তেন জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার কথিত স্বামী মাসুদ খান পলাতক রয়েছেন। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
ওসি আরও বলেন, মৃত্যুর আগে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে জুইয়ের ফেসবুক লাইভে দেওয়া ভিডিও রেকর্ডটিও পর্যালোচনা করে দেখা হবে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এঘটনায় নিহতের আগের স্বামীর পরিবার মামলা করবেন বলেও জানিয়েছেন ওসি রোকেয়া।
তবে, এব্যাপারে জানতে পলাতক মাসুদ খানের মোবাইল ফোনে কল করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।