প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৭ পিএম (ভিজিট : ৭৬)

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা মোট ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জন পোশাক শ্রমিককে আসামি করা হয়েছে।
উত্তরা পূর্ব থানা ও শিল্প পুলিশ (ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ) বাদী হয়ে পৃথকভাবে মামলা দুটি দায়ের করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তরা এলাকায় আন্দোলন করে আসছিলেন পোশাক শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গ্যাস জলকামান নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এ সময় কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধনের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চড়াও হন এবং সরকারি কাজে সরাসরি বাধা দেন। শ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। সংঘর্ষে কয়েকজন শ্রমিকও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রথম মামলা: সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধন, সড়ক অবরোধ এবং সরকারি সম্পদের ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে উত্তরা পূর্ব থানা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে। এতে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা শ্রমিককে আসামি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলা: শিল্প পুলিশের এক সদস্যের ওপর হামলা এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পক্ষ থেকে একটি গাড়িচালক বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে ৬০ থেকে ৭০ জন অজ্ঞাতনামা গার্মেন্টস শ্রমিককে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উত্তরা পূর্ব থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও চিত্র পর্যালোচনা করে সহিংসতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উত্তরা জোনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে জোরদার করা হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এবং পুরো এলাকায়ি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে রাখা হয়েছে।