শুক্রবার ● ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ● ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

শিরোনাম: দুর্গাপূজায় ঢাকায় নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই: ডিএমপি কমিশনার   চার ম্যাচেই ৯৮ ছক্কা, বিশ্বরেকর্ডের সামনে ভারত–ওয়েস্ট ইন্ডিজ   ‘হিন্দুরা কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের দাস নন’: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম   মাস্কের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল আম্বানির রিলায়েন্স   সকাল-সন্ধ্যার ১২টি জিকির ও দোয়া   নানাবাড়ি থেকে বিতাড়িত, আজ বৈশ্বিক ফিনটেক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সৈয়দ তানভীর   মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আজ শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, দেশজুড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে পূজা   
নানাবাড়ি থেকে বিতাড়িত, আজ বৈশ্বিক ফিনটেক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সৈয়দ তানভীর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৮ পিএম   (ভিজিট : ৩২)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বাবাকে হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন নানাবাড়িতে। কিন্তু সম্পত্তি ও আর্থিক পাওনা নিয়ে পারিবারিক জটিলতার মধ্যে সেখান থেকেও বেরিয়ে আসতে হয় তাঁকে। হাতে ছিল একটি ব্যাগ, তাতে কয়েকটি জামাকাপড়। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সামনে রেখে সেদিন বাড়ি ছেড়েছিলেন তরুণ সৈয়দ তানভীর আহমেদ। সেই তরুণই আজ আন্তর্জাতিক ফিনটেক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

কিডনি রোগে বাবার মৃত্যুর পর বদলে যায় তানভীরের জীবন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে টিউশনি করতেন তিনি। আশ্রয় হয়েছিল নানাবাড়িতে। ভেবেছিলেন, আপনজনদের সঙ্গে থেকে পড়াশোনা শেষ করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আশ্রয়ও তাঁর জন্য অনিশ্চিত হয়ে ওঠে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে। কখনো বসার ঘরের এক কোণে রাত কাটাতে হতো তাঁকে। আবার টিউশনি ও কোচিং শেষে গভীর রাতে বাড়ি ফিরে কখনো নিজের জন্য খাবারও পেতেন না। একবার রমজান মাসে প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় রোজা রাখলেও ইফতারের সময় তাঁর সামনে খাবার ছিল না বলে বর্ণনায় উঠে এসেছে।

এ ধরনের অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝিয়ে দেয়, নানাবাড়িতে তাঁর অবস্থান আর আগের মতো নিরাপদ নেই।

একদিন টিউশনি শেষে বাড়ি ফিরে কলাপসিবল গেটের বাইরে নিজের জামাকাপড় ভর্তি একটি ব্যাগ দেখতে পান তানভীর। প্রথমে থমকে গেলেও পরে বুঝতে পারেন, ব্যাগটি তাঁরই। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে আর সেখানে থাকতে দেওয়া হবে না।

পাড়া-প্রতিবেশীদের কেউ কেউ তাঁর ভবিষ্যতের কথা ভেবে আরও কিছুদিন আশ্রয় দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাতে সিদ্ধান্ত বদলায়নি।

তানভীরের বর্ণনা অনুযায়ী, এ ঘটনার পেছনে পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক পাওনা-পাওনি নিয়ে জটিলতা ছিল। তাঁর বাবা মামাদের কাছে টাকা পেতেন। বাবার সেই পাওনা কিংবা মায়ের প্রাপ্য নিয়ে কথা বলাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল বলে তাঁর আশঙ্কা ছিল।

শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না পেয়ে নানাবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। সামনে ছিল অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। কিন্তু সেই কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁর এগিয়ে যাওয়ার সংকল্পকে থামাতে পারেনি।

নানাবাড়ি ছাড়ার পর পড়াশোনা চালিয়ে যান তানভীর। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শেষ করার পর এমবিএ সম্পন্ন করেন। জীবনের প্রতিটি ধাপে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।

পড়াশোনা শেষে সেলস ও বিজনেস ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। নতুন গ্রাহক খোঁজা, ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা এবং নতুন বাজার চিহ্নিত করার মতো দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

কাজের অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও বিস্তৃত হয়। শুধু ব্যবসা পরিচালনা নয়, কীভাবে নতুন বাজার তৈরি করতে হয়, বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িক বাস্তবতা বুঝতে হয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে স্থানীয় বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হয়—এসব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন তিনি।

দক্ষিণ এশিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য থেকে লাতিন আমেরিকা—বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়িক বাস্তবতা নিয়ে কাজ করতে করতে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তানভীর।

বর্তমানে তানভীর বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ডিবি ইনভেস্টিংয়ের গ্লোবাল বিজনেস, স্ট্র্যাটেজি ও অপারেশনস বিভাগের গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁর কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা, ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণ। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বাড়ানো, ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণ এবং পরিচালন কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।

একসময় নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে যাঁকে টিউশনি করতে হতো, আজ তিনি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রযুক্তি খাতে নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা তৈরি ও বাজার সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।

তানভীরের জীবনের গল্পে তাঁর বর্তমান পদবির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সেই কঠিন সময়, যখন একটি ব্যাগ হাতে তাঁকে নানাবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছিল। সেদিন হারিয়েছিলেন আশ্রয়, সামনে ছিল অনিশ্চয়তা। তবু পড়াশোনা ও কর্মজীবনের পথ থেকে সরে যাননি তিনি।

তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, জীবনের কঠিন পরিস্থিতি ভবিষ্যতের পথকে অনিশ্চিত করে তুললেও তা সব সম্ভাবনার সমাপ্তি নয়। অধ্যবসায়, দক্ষতা অর্জন এবং লক্ষ্য ধরে রাখার মাধ্যমে মানুষ নিজের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারেন।

একসময় যে তরুণের কাছে থাকার জায়গাটুকুও অনিশ্চিত ছিল, আজ তাঁর কর্মক্ষেত্র বিস্তৃত একাধিক মহাদেশে। সৈয়দ তানভীর আহমেদের যাত্রা তাই শুধু পেশাগত সাফল্যের বিবরণ নয়; এটি প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করার এক ব্যক্তিগত গল্প।

তবে তাঁর কর্মজীবন ও বর্তমান দায়িত্ব সম্পর্কে উল্লেখিত তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তাই তাঁকে নিয়ে প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি ও পদবির তথ্য যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]