
সংগৃহীত ছবি
সিমেন্ট উৎপাদনপ্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের লক্ষ্যে চীনের গুয়াংসি ইউফেংকোং লিমিটেডের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি ও বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড (বিআইসিএল)। এ অংশীদারির মাধ্যমে বাংলাদেশের সিমেন্টশিল্পে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করবে প্রতিষ্ঠানগুলো।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা সুপারগলফে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি ও বিআইসিএলের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান। অন্যদিকে, গুয়াংসি ইউফেংয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লেই ঝেনবিন।
সমঝোতা অনুযায়ী, মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএলকে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে গুয়াংসি ইউফেং। পাশাপাশি সিমেন্ট উৎপাদনসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি হস্তান্তর, কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময় এবং কৌশলগত বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবে উভয় পক্ষ। সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট পরিধি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
‘বাংলাদেশ অ্যান্ড চায়না: বিল্ডিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ অংশীদারি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি দেশের সিমেন্টশিল্পের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। দুই দেশের প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে উৎপাদনপ্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) শাহেদ জাহিদ বলেন, সিমেন্ট কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুয়াংসি ইউফেংয়ের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমান বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, নৌপথে পণ্য পরিবহনের জটিলতা এবং বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় সৃষ্ট বিঘ্নের প্রেক্ষাপটে এ সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
তিনি বলেন, গুয়াংসি ইউফেংয়ের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সরবরাহব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করে তুলতে চান তাঁরা। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
গুয়াংসি ইউফেংয়ের চেয়ারম্যান লেই ঝেনবিন বলেন, চীনের সিমেন্ট উৎপাদনশিল্পে সিনোমা শিয়ামেন অন্যতম পুরোনো ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। সিমেন্টশিল্পের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত সরবরাহব্যবস্থা এবং উন্নত উৎপাদনপ্রযুক্তি রয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ পেয়ে তাঁরা কৃতজ্ঞ। যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের সিমেন্টশিল্পের রূপান্তর ও উন্নয়নে অবদান রাখতে চান তাঁরা।
অনুষ্ঠানে মেঘনা সিমেন্ট, বিআইসিএল এবং সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গুয়াংসি ইউফেংয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির উপপ্রধান প্রকৌশলী দেং ইউলিয়ানসহ অন্য কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সিনো বিডি এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিন ইয়ানশিয়ং ও জেনারেল ম্যানেজার ইয়ে ঝেনহং এবং ইয়ুনহাই মাইনিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ওয়ে গুয়াংহাই উপস্থিত ছিলেন।
মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএল জানিয়েছে, গুয়াংসি ইউফেংয়ের সঙ্গে এ সমঝোতা প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি সিমেন্ট উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সহায়ক হবে এ অংশীদারি। প্রতিষ্ঠান দুটি আশা করছে, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের সিমেন্টশিল্পে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও যৌথ বিনিয়োগের নতুন পথ উন্মুক্ত করবে।