
সংগৃহীত ছবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার নিয়মিত মেনুতে গরু ও খাসির মাংস অন্তর্ভুক্ত করাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
একই সঙ্গে আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত গরু ভোজে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি বিজ্ঞান অনুষদ এলাকা প্রদক্ষিণ করে ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় তাঁরা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ এবং ‘গরু খাওয়ার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা বলেন, ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে প্রশাসনের জারি করা নোটিশ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তিনি অবিলম্বে নোটিশ প্রত্যাহার এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি শুক্রবার বাদ জুমা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গরু জবাই করে ভোজের আয়োজন করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। এ আয়োজনে উপাচার্যকেও আমন্ত্রণ জানান।
জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম এনপিবি নিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হলেও নিষেধাজ্ঞা জারির মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনকে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার নিয়মিত মেনুতে গরু ও খাসির মাংস অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী। তাঁর মতে, একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে প্রশাসন একপক্ষীয়ভাবে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের নেতাদের প্রশ্রয় দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ফাতেমা তুজ জোহরা আরও বলেন, প্রশাসন তাদের বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মুসলমানদের প্রতি একধরনের ‘সফট থ্রেট’ দিয়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসনের নোটিশে ক্যাম্পাসে সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করার কথা বলা হলেও এর মাধ্যমে মূলত গরু জবাইয়ে বাধা দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।
সমাবেশ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কিত নোটিশ প্রত্যাহার করে প্রশাসনের দুঃখপ্রকাশ।
২. নোটিশ জারির পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করা।
৩. গত সোমবার মুক্তমঞ্চের সামনে শিক্ষার্থীদের নৈশভোজের আয়োজনকে সাম্প্রদায়িক উসকানিতে রূপ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।
৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার নিয়মিত মেনুতে গরু ও খাসির মাংস অন্তর্ভুক্ত করা।
এ ছাড়া ক্যাম্পাসে ধর্মীয় বৈষম্য ও বিদ্বেষ দূর করার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান জকসুর নেতারা।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে জকসু ও হল সংসদের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।