শনিবার ● ১০ অক্টোবর ২০২৬ ● ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

শিরোনাম: প্রয়াত শিক্ষিকা দিপালী মুখার্জির ১২তম প্রয়াণ দিবস আজ   মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান   বনানীতে শেষ শ্রদ্ধা, বিকেলে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন তৌফিক ইমরোজ খালিদীর   যশোরে দাদার কবরের পাশে দাফন তাজমিনের, হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি পরিবারের   ফুটপাত দখলমুক্তের উদ্যোগ ঘিরে জামায়াত ষড়যন্ত্র করছে: ডিএনসিসি প্রশাসক   মুক্তির সাত দিনেই ৩৮৩ কোটি রুপি আয় ‘দৃশ্যম ৩’-এর   রিয়াদ বিমানবন্দরে তৃতীয় দফায় হামলার দাবি হুতিদের, ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ   
আবাসন খাতের সংকটে ঝুঁকিতে বহু শিল্প, চাপে সামগ্রিক অর্থনীতি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম   (ভিজিট : ৮৫)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

একটি ফ্ল্যাট নির্মাণ বা বিক্রি না হলে ক্ষতি কি শুধু একজন আবাসন ব্যবসায়ীর? বাস্তবে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে অর্থনীতির বহু খাতে। একটি ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে গেলে কমে যেতে পারে রডের অর্ডার, সিমেন্টের চাহিদা, টাইলসের বিক্রি ও কাচের সরবরাহ। কাজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন নির্মাণশ্রমিকেরা, কমে যায় পরিবহন ব্যবসার আয়, আর সংকুচিত হতে পারে ব্যাংকের ঋণ বিতরণও।

অর্থাৎ আবাসন খাতে সংকট তৈরি হলে তার অভিঘাত শুধু নির্মাতা বা ক্রেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা ছড়িয়ে পড়ে শিল্প, ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও ভোগব্যয়ের বিস্তৃত পরিসরে। তাই প্রশ্ন উঠছে—আবাসন খাত সচল থাকলে অর্থনীতির কতগুলো খাত উপকৃত হয়, আর এই খাতে মন্দা দীর্ঘায়িত হলে কতগুলো শিল্প ক্ষতির মুখে পড়ে?

আবাসন বাজারে স্থবিরতা

বাংলাদেশের আবাসন বাজারে বর্তমানে একধরনের স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। চাহিদা থাকলেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা চাপে রয়েছে। নির্মাণাধীন প্রকল্প থাকলেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা বাড়ছে। বাজারে ফ্ল্যাট থাকলেও অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা সিদ্ধান্ত নিতে অপেক্ষা করছেন।

উচ্চ সুদের হার, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, কর ও নিবন্ধন ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে আবাসন ব্যবসার হিসাব জটিল হয়ে উঠেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকার আবাসিক ফ্ল্যাট বিক্রির গতি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এ পরিস্থিতিতে বড় প্রশ্ন হলো, মানুষ কি ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছে, নাকি বাড়তি ব্যয় ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে চাইলেও কিনতে পারছে না? এই দুই পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কারণ চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ক্রয়ক্ষমতার অভাবে বিক্রি কমে গেলে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পুরো অর্থনীতিতে পড়তে পারে।

একটি ভবন, বহু শিল্পের সংযোগ

বাইরে থেকে একটি ভবনকে ইট, বালু, সিমেন্ট ও রডের সমষ্টি মনে হতে পারে। কিন্তু অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি বিস্তৃত সরবরাহব্যবস্থার অংশ।

ভবন নির্মাণে প্রয়োজন হয় স্টিল কারখানার রড, সিমেন্ট কারখানার পণ্য, বালু-পাথর, ইট, টাইলস, স্যানিটারি সামগ্রী, কাচ, অ্যালুমিনিয়াম, রং, বৈদ্যুতিক তার, সুইচ ও লিফট। এসব পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত থাকে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ও কর্মী।

ফলে একটি আবাসিক প্রকল্প চালু হলে একই সঙ্গে বিভিন্ন শিল্পে অর্থের প্রবাহ তৈরি হয়। বিপরীতে, নতুন ভবন নির্মাণ কমে গেলে রড, সিমেন্ট, ইট, বালু-পাথরসহ নির্মাণসামগ্রীর চাহিদাও কমতে পারে।

চাহিদা কমে গেলে কারখানাগুলো উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পূর্ণমাত্রায় পরিচালিত হতে পারে না। এতে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ছোট সরবরাহকারী, পাইকার, খুচরা বিক্রেতা ও পরিবহন ব্যবসায়ীরাও চাপে পড়েন। এভাবেই একটি খাতের মন্দা ধীরে ধীরে অন্য খাতগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়ে প্রভাব

আবাসন খাতের সংকটের সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ে নির্মাণশ্রমিকদের ওপর। একটি ভবন নির্মাণে প্রকৌশলী ও স্থপতিদের পাশাপাশি কাজ করেন রাজমিস্ত্রি, রডমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, টাইলস মিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি এবং নানা পর্যায়ের শ্রমিক।

নির্মাণকাজ কমে গেলে তাঁদের কাজের সুযোগ ও আয় কমে যেতে পারে। আয় কমলে পরিবারের ব্যয় সংকুচিত হয়। এর প্রভাব পড়ে স্থানীয় বাজার, মুদি দোকান, পরিবহন ও অন্যান্য সেবামূলক ব্যবসায়ও।

অর্থনীতিতে এ ধরনের প্রভাবকে বলা হয় ‘মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’। অর্থাৎ একটি খাতে ব্যয় বা আয় কমে গেলে তার প্রভাব অন্য খাতের উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ভোগব্যয়েও ছড়িয়ে পড়ে। আবাসন খাতের মন্দা তাই শুধু নির্মাণশ্রমিকদের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

গৃহঋণ ও ব্যাংক খাতের সম্পর্ক

আবাসন বাজারের সঙ্গে ব্যাংক খাতেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় একটি অংশ গৃহঋণের মাধ্যমে ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করে। কিন্তু ঋণের সুদের হার বাড়লে মাসিক কিস্তির পরিমাণও বেড়ে যায়। ফলে সম্ভাব্য ক্রেতারা নতুন করে হিসাব করেন—এখনই ফ্ল্যাট কিনবেন, নাকি আর্থিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।

ক্রেতাদের এই অপেক্ষা আবাসন বাজারে বিক্রির গতি কমিয়ে দিতে পারে। কারণ গৃহঋণের অর্থ ফ্ল্যাট কেনার মাধ্যমে ডেভেলপারদের কাছে যায়। সেই অর্থ থেকে নির্মাণকাজের ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্য পরিশোধ করা হয়। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও ওই অর্থ দিয়ে নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করে।

অর্থাৎ গৃহঋণের অর্থ আবাসন খাতের ভেতর দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে প্রবাহিত হয়। ঋণের ব্যয় বেড়ে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেলে এই অর্থনৈতিক চক্রও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

ফ্ল্যাট বিক্রির পরও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড

আবাসন খাতের প্রভাব ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাট বিক্রির মধ্যেই শেষ হয় না। একটি পরিবার নতুন ফ্ল্যাটে উঠলে প্রয়োজন হয় খাট, সোফা, ডাইনিং টেবিল, পর্দা, ফ্রিজ, টেলিভিশন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, লাইটিং ও ইন্টারনেট সংযোগের মতো নানা পণ্যের।

ফলে আবাসন খাত সচল থাকলে নির্মাণসামগ্রীর পাশাপাশি আসবাব, ইলেকট্রনিকস, গৃহসজ্জা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও টেলিযোগাযোগ খাতও উপকৃত হতে পারে। এ কারণে আবাসনকে অর্থনীতির সঙ্গে বহুমাত্রিকভাবে সংযুক্ত একটি খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নতুন আবাসন প্রকল্পের গতি কমে গেলে এসব পণ্যের চাহিদাও প্রভাবিত হতে পারে। তবে এর প্রকৃত মাত্রা নির্ভর করে ফ্ল্যাট বিক্রির পরিস্থিতি, মানুষের আয়, ভোগব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর বাজারের ওপর।

সংকটের পেছনে একাধিক কারণ

আবাসন খাতের বর্তমান চাপের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। একদিকে নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা চাপে রয়েছে। উচ্চ গৃহঋণের সুদ, আমদানিনির্ভর কাঁচামালের মূল্য ও ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতা নির্মাণ ব্যয়কে আরও প্রভাবিত করতে পারে।

এর সঙ্গে কর ও নিবন্ধন ব্যয়, জমি ও প্রকল্প অনুমোদনের জটিলতা এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা যুক্ত হলে নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

ফলে ক্রেতা, ডেভেলপার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অপেক্ষার প্রবণতা তৈরি হয়। এই অপেক্ষা দীর্ঘ হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতে পারে, নতুন বিনিয়োগ কমতে পারে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি আরও শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আবাসন খাত সচল করতে কী প্রয়োজন

আবাসন খাতের সংকট মোকাবিলায় শুধু ফ্ল্যাটের দাম কমানোর আহ্বান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত উদ্যোগ।

প্রথমত, মধ্যবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী গৃহঋণের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি হাউজিং ফাইন্যান্স ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে, যাতে ক্রেতারা তাঁদের আয় অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা করতে পারেন।

তৃতীয়ত, কর ও নিবন্ধন ব্যয়ের যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। চতুর্থত, নির্মাণসামগ্রীর সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। পঞ্চমত, জমি ও প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও সময়সীমাবদ্ধ করা জরুরি।

এর পাশাপাশি নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আবাসন একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগনির্ভর ব্যবসা। আজ বিনিয়োগ করে আগামীকালই তার পূর্ণ সুফল পাওয়া যায় না। তাই বিনিয়োগকারীদের জন্য করছাড় বা আর্থিক প্রণোদনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নীতিমালা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ও স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন।

অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের বিতর্ক

আবাসন খাতকে চাঙা করতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবিও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সমর্থকদের যুক্তি হলো, অর্থ দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পরিবর্তে দেশে বিনিয়োগ করা হলে আবাসনসহ সংশ্লিষ্ট শিল্পে অর্থের প্রবাহ বাড়তে পারে।

তবে এ ধরনের উদ্যোগের সম্ভাব্য সুফল বিবেচনার পাশাপাশি করব্যবস্থায় ন্যায্যতা, অর্থের উৎস যাচাই এবং আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অর্থাৎ আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর নীতিকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জবাবদিহি ও ন্যায্যতাও বজায় থাকে।

আবাসন খাতের সঙ্গে জড়িয়ে অর্থনীতির আস্থা

একটি অর্থনীতির শক্তি শুধু মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। কত মানুষ কাজ করছেন, কত কারখানা উৎপাদন করছে, কত উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করছেন এবং কত পরিবার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী—এসব বিষয়ও অর্থনীতির বাস্তব অবস্থা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

আবাসন খাতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রড, সিমেন্ট, সিরামিক, কাচ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, আসবাব, পরিবহন, ব্যাংকঋণ ও কর্মসংস্থান। ফলে এ খাতের মন্দা দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব অর্থনীতির বহু স্তরে পড়তে পারে।

অন্যদিকে আবাসন খাতে বিনিয়োগ ও নির্মাণকাজ বাড়লে সংশ্লিষ্ট শিল্পে চাহিদা, কর্মসংস্থান ও অর্থের প্রবাহও বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে এ সুফল পেতে হলে বাজারে বাস্তব চাহিদা, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং বিনিয়োগের পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি।

আবাসন তাই শুধু ইট-পাথরের গল্প নয়; এটি শ্রমিকের মজুরি, ব্যাংকের ঋণ, উদ্যোক্তার বিনিয়োগ, শিল্পের উৎপাদন এবং মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গল্প। এ খাতের ভিত্তি শক্তিশালী হলে অর্থনীতির বহু স্তম্ভও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পায়।










  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]