
সংগৃহীত ছবি
ভারতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিংক চালু করা নিয়ে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক ও ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানির মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের মধ্যে প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছে আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবাও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে রিলায়েন্স এ অবস্থান তুলে ধরে। স্টারলিংকের কার্যক্রম ভারতে চালুর পথে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ ওঠার পর এটিই প্রতিষ্ঠানটির প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।
বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক বারবার অভিযোগ করেছেন, ভারত সরকার ও মুকেশ আম্বানি ভারতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছেন। তবে ভারত সরকার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিবৃতিতে মাস্কের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে রিলায়েন্স জানায়, তারা কখনোই প্রতিযোগিতাকে ভয় পায়নি। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, রিলায়েন্স ও ভারতের বাজার নিয়ে করা বিভিন্ন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক তথ্য তুলে ধরতেই এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
রিলায়েন্সের টেলিকম ব্যবসা পরিচালিত হয় ‘জিও’ ব্র্যান্ডের অধীনে। ৫৩ কোটির বেশি গ্রাহক নিয়ে ভারতের ইন্টারনেট বাজারে শক্ত অবস্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে দেশটিতে স্টারলিংকের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জিওকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিটাল শাখা জিও প্ল্যাটফর্মস ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ১০৮ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এর কয়েক দিন আগে রিলায়েন্সের এই বিবৃতি এল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিভিন্ন পোস্টে মুকেশ আম্বানিকে আক্রমণ করেছেন মাস্ক। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আম্বানিই কি ভারতের ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রক’? এমনকি তাঁকে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলেও সম্বোধন করেছেন। পাশাপাশি, ভারতে স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মাস্কের এসব মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। একই সময়ে ভারত বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভারত সরকার ইতোমধ্যে স্টারলিংক, জিওর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বিভাগ এবং ভারতী এয়ারটেলের সমর্থনপুষ্ট ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবকে পরিষেবা পরিচালনার লাইসেন্স দিয়েছে। তবে কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র এখনো কোনো প্রতিষ্ঠান পায়নি।
স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড প্রযুক্তি চালু হলে ভারতের গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী কোটি কোটি মানুষ ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। বর্তমানে এসব এলাকার অনেক মানুষই ইন্টারনেট সংযোগের বাইরে রয়েছেন।
মাস্ক জানিয়েছেন, ভারতের বাজারে জিওর সাশ্রয়ী ইন্টারনেট প্যাকেজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে স্টারলিংকের পরিষেবার দামও নাগালের মধ্যে রাখবেন তিনি। সস্তায় ডেটা সরবরাহের মাধ্যমে জিও ভারতের টেলিকম বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। কেনিয়ার মতো বাজারেও কম দামের কৌশল নিয়ে প্রবেশ করে মাস্ক স্থানীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।