প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম (ভিজিট : ৩৩)

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গত নয় বছরে হত্যা, মাদক, অস্ত্র, ধর্ষণ, অপহরণ ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে সাড়ে চার হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শুধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ই ২৮৮টি ঘটনা ঘটেছে এবং এর বিপরীতে মামলা হয়েছে ২৭৭টি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যা মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে প্রায় দুই হাজার রোহিঙ্গাকে। মাদকসংক্রান্ত সাড়ে তিন হাজার মামলায় আসামি হয়েছেন ৫ হাজার ৯৩৫ জন। এছাড়া অস্ত্র ও দস্যুতার ১৬৫ মামলায় ৩১২ জন, ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের ৩৫২ মামলায় ৫২১ জন এবং অপহরণের ৩০৬ মামলায় ৩৫৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া মানবপাচারের চার শতাধিক মামলায় ৮৭৯ জন রোহিঙ্গাকে আসামি করা হয়েছে। অন্যান্য আইনে আরও শতাধিক মামলা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পগুলোতে অপরাধপ্রবণতা, আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মাদক ও মানবপাচারের মতো অপরাধে রোহিঙ্গাদের একটি অংশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর প্রায় নয় বছর পার হলেও তাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে গত দেড় বছরে নতুন করে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনেকে দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রত্যাশা করছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে অনিশ্চিত জীবন কাটাতে হচ্ছে। প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু হলে নিরাপত্তা ও মানবিক উভয় দিক থেকেই সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকর করার উদ্যোগও জোরদার করা প্রয়োজন।