প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩২ পিএম (ভিজিট : ৫০)

ঝিনাইদহ রেশম বীজাগার, হলিধানী (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহ রেশমবোর্ডের খড়ি গোপনে বিক্রয় করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে ফার্মের ম্যানেজারকে না জানিয়ে হলিধানী রেশম বোর্ড থেকে খড়ি বিক্রয়ের এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে ফার্মের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। ফার্ম ম্যানেজারের দাবি রেশম বোর্ডের উপ-পরিচালকের নির্দেশেই খড়িগুলো মিনি-ফিলিসারের জ্বালানীর জন্য দেওয়া হচ্ছিল। এদিকে উপ-পরিচালকের দাবী খড়ির বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি।
জানা যায়, শুক্রবার ভোর সকালে ফার্মের শ্রমিক নূর-ইসলাম গাড়ি বোঝাই করে বাহিরে বিক্রয় উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজন গাড়িটিকে আটক করে। আরো জানা যায়, ঝিনাইদহ হলিধানী রেশম বোর্ডের বিভিন্ন গাছের খড়ি সরকারি নিয়মে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রয় হবার কথা। অথচ কোন টেন্ডার ছাড়াই ফার্মের খড়ি বিক্রয় করা হচ্ছে। এর আগেও ফার্মের ম্যানেজারের যোগসাজশে ফার্ম থেকে বিভিন্ন সময়ে কয়েক গাড়ি খড়ি গোপনে বিক্রয় করা হয়েছে।
ফার্মের শ্রমিক নূরইসলাম জানান, ফার্মের ম্যানেজার গত বৃহস্পতিবার তাকে মৌখিক ভাবে ওজন করে খড়ি বিক্রয়ের কথা বলে। আজ ভোর সকালে শালিয়া গ্রামের তাওহিদ ইসলামের ভ্যানে করে প্রায় ২০মন খড়ি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ওজন করতে আনা হয়। এসময় স্থাণীয়রা খড়ির গাড়িসহ তাকে বাঁধা দেয়।
স্থাণীয় কৃষক ইব্রাহীম হোসেন জানান, সকালে মাঠে যাবার সময় দেখতে পায়, ফার্ম থেকে একভ্যান খড়ি বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে। ভ্যান চালকের কাছে খড়ির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন খড়িগুলো বিক্রয় করা হবে, এজন্য ওজন করতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর আগেও ফার্ম থেকে বেশ কয়েক গাড়ি খড়ি বিক্রয় করা হয়েছে। নতুন ম্যানেজার আসার পরে, পুরাতন শ্রমিকদের দিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম করতে গেছে। ওই শ্রমিকরা ম্যানেজারের কথা না শুনতে চাওয়ায় তাদরকে বাদ দিয়ে, নতুন শ্রমিকদের নিয়ে ফার্মের বিভিন্ন ধরনের গাছ বিক্রয় করছে।

ফার্মের ম্যানেজার মোঃ স্বপন বাবু জানান, মূলত ফার্মের মাঠে তুত গাছসহ বিভিন্ন গাছের ডালপাড়া বা খড়ি কর্তন করা হয়েছে। গত সম্পাহে উপ- পরিচালক মাঠ পরিদর্শন করেন। তিনি কিছু খড়ি মিনিফিলিসারে দেওয়ার নিদের্শ দিয়েছে। সেই নির্দেশে ২০ থেকে ৩০ মন খড়ি মিনিফিলিসারে দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়। যেহেতু আমাদের এখানে ওজন করার যন্ত্র নাই, সে কারনে পাশে ওজন মাপার যন্ত্রে ওজন করার জন্য নেওয়া হয়েছে। আজ সকালে আমার উপস্থিতে খড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু আমাকে জানানো হয়নি। তবে ওই খড়িগুলো মিনিফিলিসারে দেওয়ার জন্যই নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঝিনাইদহ রেশম বোর্ডের উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুল মালেক বলেন, মিনিফিলিসারে মেশিনের জন্য প্রথমে কিছু চিকন খড়ি লাগে। সেগুলো ওখানে রাখা আছে। তুত গাছের খড়ি ব্যবহার করলে রেশম সুতা কালো হয়ে যায় এ কারনে আমরা ওখানকার খড়ি ব্যবহার করি না। ফর্মের খড়িগুলো সরকারি নিয়মে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রয় হবার কথা। আজ ফার্ম থেকে কি কারনে খড়িগুলো বের হয়েছে আমি জানিনা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সলে ঝিনাইদহ আঞ্চিলক রেশম সম্প্রসারণ স্থাপিত হয়। দক্ষিণ অঞ্চলের রেশম চাষ সম্প্রচারণ ও দরিদ্র মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য তৎকালীন রেশম বোর্ড কার্যালয়টি স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে এটি ঝিনাইদহ হলিধানী রেশম বীজাগার চত্বরে স্থানান্তরিত হয়।