প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৭ এএম (ভিজিট : ৩৭)

সংগৃহীত ছবি
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটির পাশে দাঁড়ানো যেকোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের ওপর আরও ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন।
ট্রাম্প তার নতুন উদ্যোগকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো ইরানের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক যোগাযোগকে আরও চাপে ফেলা এবং দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, কোনো দেশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি সংস্থা ইরানকে অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিকভাবে সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়গুলো ওয়াশিংটনের নজরদারিতে রয়েছে।
এদিকে, ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার চীনকে ঘিরেও বিশেষ নজর রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চীনের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপ দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা সংকট ও তেল পরিবহনে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তেল, ব্যাংকিং ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, সামরিক চাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াশিংটন এখন অর্থনৈতিক চাপের পথ বেছে নিয়েছে।
ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারিতে স্পষ্ট হয়েছে, ইরানের ওপর চাপ শুধু তেহরানকেন্দ্রিক থাকছে না; দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা তৃতীয় দেশগুলোকেও সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।