শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬ ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

শিরোনাম: ঢাকা বোর্ডের ১৩ জুলাইয়ের এইচএসসি পরীক্ষা ২৪ আগস্ট   ইরানকে সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের   নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর   সৌদি বিমানবন্দর ও আরামকো স্থাপনায় হুতিদের ড্রোন হামলার দাবি   ভারত সিরিজ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে, জানালেন তামিম   ঝিনাইদহে মেসে বাজার করা নিয়ে বিরোধ, রুমমেটের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র নিহত   রিজভীকে নতুন দায়িত্বে পেয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র অভিনন্দন   
অবরুদ্ধ গাজায় চোরাচালানের রমরমা, ১৪০ ডলারে সিগারেট; ফ্যান ৫০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৪ এএম   (ভিজিট : ৩২)

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

গাজায় যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। এর সুযোগে নিষিদ্ধ ও সীমিত পণ্যের চোরাচালান ক্রমেই বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গাজায় একটি প্যাকেট সিগারেটের দাম উঠেছে ১৪০ ডলার পর্যন্ত। একসময় ১০০ ডলারে পাওয়া যেত এমন একটি বৈদ্যুতিক ফ্যান এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০০ ডলারে।

চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী, ট্রাকচালক, কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকার এবং বিভিন্ন আদালতের নথি বিশ্লেষণ করে এই পরিস্থিতির চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় চোরাচালান এখন শুধু অবৈধ বাণিজ্য নয়; যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। অনেক মানুষের জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে।

সিগারেটেই সবচেয়ে বেশি মুনাফা

গাজায় চোরাচালানের সবচেয়ে লাভজনক পণ্যের মধ্যে রয়েছে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য। যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় সিগারেট প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এক প্যাকেট সিগারেটের দাম ১৪০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। এর আগে সম্পূর্ণ অবরোধের সময় দাম আরও এক হাজার ডলারের বেশি পর্যন্ত পৌঁছেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চোরাচালানকারীদের কাছে সিগারেট তুলনামূলকভাবে সহজে লুকিয়ে পরিবহন করা যায়। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সামরিক যান, বাণিজ্যিক ট্রাক, ত্রাণবাহী চালানসহ নানা উপায়ে সিগারেট গাজায় ঢোকানো হয়েছে।

১০০ ডলারের ফ্যান ৫০০ ডলারে

গাজার বাসিন্দাদের জন্য সংকট শুধু সিগারেটেই সীমাবদ্ধ নয়। দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক পণ্যও এখন অত্যন্ত ব্যয়বহুল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে প্রায় ১০০ ডলারে বিক্রি হওয়া একটি ফ্যানের দাম এখন ৫০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, কিছু পণ্য ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ (dual-use) হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সেগুলোর প্রবেশে কড়াকড়ি রয়েছে।

এ ছাড়া গাড়ির ব্যাটারি, সৌর প্যানেল, জ্বালানি, মোবাইল ফোন, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্যও চোরাই পথে গাজায় প্রবেশ করছে। একটি গাড়ির ব্যাটারির দাম যুদ্ধের আগে প্রায় ১৪০ ডলার থাকলেও এখন তা ২ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বাড়তি খরচের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর

চোরাচালান প্রক্রিয়ায় পরিবহনকারী, গুদামকর্মী, মধ্যস্বত্বভোগীসহ বিভিন্ন পক্ষকে অর্থ দিতে হয়। এসব অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যোগ হয়ে সাধারণ ভোক্তার ওপরই চাপ তৈরি করছে।

ফলে যুদ্ধ, অবরোধ ও সরবরাহ সংকটের মধ্যে গাজার সাধারণ মানুষকে একই সঙ্গে পণ্যের ঘাটতি এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চোরাচালান এখন অনেকের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাজার এই চিত্র যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে সরবরাহব্যবস্থার ভঙ্গুরতা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর তার গভীর প্রভাবকে নতুন করে সামনে এনেছে।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]