শনিবার ● ৭ নভেম্বর ২০২৬ ● ২২ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: সামিটের এলএনজি টার্মিনাল চালু, স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ   ‘ডিসেম্বরে আপার দেশে ফেরার সুযোগ নেই, এলেও ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত’: নাহিদ ইসলাম   সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে চট্টগ্রামের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি   নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   আত্রাইয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত   ৭ নভেম্বর না হলে দেশ ভারতীয় আগ্রাসন থেকে মুক্ত হতনা: নাসের রহমান   শরণখোলায় বিপ্লব ও‌ সংহতি দিবস পালিত    
মাধবী, তোমার অনুর্বর হৃদয়ে আমার জন্য একটি লাল টুকটুকে গোলাপ ফুটুক এটা আমার আজন্মের আরাধনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম   (ভিজিট : ৭৯)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

মাধবী-২৬৪
মোঃ আসাদুজ্জামান
রাজনৈতিক কর্মী। 
০৭ নভেম্বর, ২০২৬।

মাধবী,
বিদ্রোহী কবি, প্রেম বিরহের কবি, আমাদের জাতীয় কবি নজরুল যথার্থই বলেছেন, ‘পুরুষ এসেছে মধু তৃষা লয়ে, নারী জুগায়েছে মধু।’  গতকাল গোধূলি বেলা, কণে দেখা আলো আর হেমন্তের সোনালী সন্ধ‍্যায় তোমাকে ভাবতে ভাবতে নজরুলের ঐ কথাগুলো মনে পড়লো, ভাবলাম এ সন্ধ‍্যার আবীর ছড়ানো আলোয় কথাগুলো সত‍্যিই হৃদয়  ছুঁয়ে যাওয়ার মতো  প্রাসঙ্গিক। পাশাপাশি বিরহের আবীর ছড়ানো  আকাশ, উপেক্ষার দহন বেলায় ছড়িয়ে পড়া রঙ চটা হৃদয় আর কুসুম কুসুম আন্দোলনের উত্তাপের অনুভূতিতে তোমাকে খুব মনে পড়ছিল। ঢাকা বারের নতুন আইনজীবীদের অভিষেক আমাকে আইনজীবী হওয়ার প্রথম দিনগুলোর স্মৃতিতে ভাসিয়েছিলো। 
এতকিছুর মাঝেও তুমি কখনো মেঘে  ঢাকা তারার মতো, কখনো বা পূর্ণিমার চাঁদ হয়ে আনাগোনা করলে। সেই পুরনো কথার মতো মনে হলো, অতি প্রিয় মানুষ কুয়াশার মতো দেখা যায় কিন্তু ছোয়া যায় না..! ইদানীং স্মৃতিদের ভীড়ে হারালে মাঝেমধ্যে অস্ফুটে তোমাকে ডাকি, ভাবি, কোনো এক সাঁঝবেলায় যদি আকাশের সব তারা  জ্বলে ওঠার পর তোমাকে বলি, ‘চলো, বহুদূরের কোন নির্যনতাই যাই’-যাবে? আজকাল হরহামেশাই তোমার ওপর ভীষণ অভিমানী হই, তোমার সাজানো গোছানো নিষ্ঠুরতার জন‍্য। যে কন্ঠের শব্দ না শুনলে আমার বিকেলগুলো বিষণ্নতায় কাটে,  সেই কন্ঠ রুদ্ধ থাকে, বোবা হয়ে রয়।  এক সমূদ্র ক্ষোভ নিয়ে ভাবি, ঐ কন্ঠে কি একদিন আমার নাম ধরে ডাকার মতো একটু মায়া ঝরে পড়তে পারে না? 

মাধবী,
তোমার  অনুর্বর হৃদয়ে আমার জন্য একটি লাল টুকটুকে গোলাপ ফুটুক এটা আমার আজন্মের আরাধনা । কিন্তু তুমি আমাকে ফুলের বদলে অপেক্ষা দেও, মায়ার বদলে নীরবতা, আর প্রতিটি ফিরে আসার আশায় বদলে দূরত্ব। তবু জানো, সমস্ত অভিমান পেরিয়েও তোমার জন্য আমার ভেতরে একটি দরজাও কখনো বন্ধ হয়নি। সেখানে কোনো অভিযোগের পাহাড়  নেই, কোনো অভিমানের তালা নেই শুধু এক বুক না-বলা কথা জমে আছে। কোনো একদিন, হয়তো অনেক দিন পরে, যখন তোমার ঠোঁটে আর নিষ্ঠুরতা থাকবে না, যখন আমার নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে তোমার কণ্ঠে একটু ভালোবাসা কেঁপে উঠবে সেদিন ভোরের প্রথম আলোয় তোমার দরজায় এসে দাঁড়াব। তোমাকে জয় করতে নয়, তোমার কাছে কোনো কৈফিয়ত চাইতেও নয়। শুধু একবার বলতে

“মাধবী, দেখো, এতো অভিমান নিয়েও আমি তোমাকে ভালোবাসতে ভুলিনি।’ কিছু কিছু শহর আছে, যেখানে মানুষ বাস করে না স্মৃতি বাস করে। জানালার পাশে একটা পুরোনো বিকেল, চায়ের কাপে জমে থাকা শীতলতা, আর রেললাইনের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা একখণ্ড বিষণ্ন আকাশ। সেখানে কেউ কারও জন্য অপেক্ষা করে না, অথচ প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্টেশনটা অকারণে ভিড় হয়ে ওঠে। এইসব ভিড় ঠেলে আমার ইদানীং শহর ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছে করে, এমন কোনো শহরে, যেখানে কেউ আমাকে চিনবে না, আমার চোখের নিচে জমে থাকা ক্লান্তির ইতিহাস জানতে চাইবে না। যেখানে পরিচয়ের শুরু হবে নতুন কোনো নামে, আর অতীতকে কেউ ভুল করে বর্তমান বলে সম্বোধন করবে না। আমি সেখানে একটা ছোট্ট বাড়ি নেব। বাড়ির সামনে কৃষ্ণচূড়ার গাছ, পেছনে একফালি উঠোন। বৃষ্টির দিনে বারান্দায় বসে বই পড়ব, শীতের সকালে রোদ পোহাব। জীবনের কাছে আমার আর খুব বেশি চাওয়া নেই একটু নির্জনতা, কিছু নির্ভার দুপুর, আর এমন কয়েকটি রাত, যাদের ভোর হওয়ার আগে আমাকে কোনো স্মৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে না। তবে একটা কথা তোমাকে বলা হয়নি।

পৃথিবীর সব শহর ছেড়ে চলে যাওয়া যায়, কিন্তু নিজের ভেতরে তোমাকে নিয়ে যে শহরটা গড়ে উঠেছে, তার কোনো রেলস্টেশন নেই। সেখানে কোনো বিদায়ের বাঁশি বাজে না, কোনো ট্রেন এসে দাঁড়ায় না। সেই শহরই হয়তো আমার আজন্মের ঠিকানা ।  এই শহরে শুধু সন্ধ্যা নামলে কৃষ্ণচূড়ার পাতায় বাতাস লাগে, আর আমি খোলা জানালায়  দাঁড়িয়ে দখিন হাওয়ার সাথে মিশে যাই, ভাবি, জীবনে কত কিছুই তো পাওয়া হলো না, অথচ হারানোর জন্য কিছু মানুষকে আমরা কত যত্নে নিজেদের ভেতরে রেখে দিই! আমার মাঝে মাঝে ভাবনায় আসে, জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, আমরা যাদের কাছে পৌঁছাতে পারি না, কখনো কখনো তারাই আমাদের সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রার ঠিকানা হয়ে থাকে। কিছু পথ কেবল হাঁটার জন্যই থাকে। কিছু শহর কেবল হারিয়ে যাওয়ার জন্য। আর কিছু মানুষ থাকে, যাদের সঙ্গে কোনো গল্প শেষ হয় না; শুধু একদিন গল্পের ভেতর থেকে আমরা নিজেরাই নিঃশব্দে কষ্ট পাই! 

মাধবী,
আজ হঠাৎ ভাবছি ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় ১৯৪৫ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রায় ৮০ টির মতো দেশ স্বাধীন হয়েছে! এই সময়ে দেশে দেশে কার্লমার্কস, হো-চিমিন, ফিদেল ক‍্যাস্ট্রো, চে গুয়েভারা, জিয়াউর রহমান, জওহরলাল নেহেরু, জিন্নাহ, গান্ধী, শেখ মুজিবর রহমানের মতো জাতীয়তাবাদী কিংবা সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতাদের জন্ম হয়েছে। সবগুলো দেশের শাসনতন্ত্র রচিত হয়েছে, কাঁটাছেঁড়াও হয়েছে বহুবার। সময়ের প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে আমাদের সংবিধানেও সতেরবার জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে। আরও একবার আমাদের সংবিধানের সংশোধনী আনতে ইদানিং একটু ব‍্যস্ত হয়ে পড়েছি, সংবিধান সংশোধনের নিরন্তর কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে ব‍্যস্ততা। সাংবিধানিক শাসন ব‍্যবস্থায় যুগের চাহিদা মেটাতে সংবিধান সংশোধনের মাধ‍্যমে একটি ধ্রুপদী সংস্কার আনতে চলেছি আমরা।  ইতিহাসের এই যুগসন্ধিক্ষণে তোমার ভালোবাসা এবং প্রার্থনায় থাকতে চাই, রাখবে?

মাধবী,
জীবনের এতো হৈ রৈ, এতো সমারোহের মাঝে একদিকে তোমাকে ভুলে যাওয়ার সাধনা, অন্যদিকে ফিরে পাওয়ার মোনাজাত আমার নিত‍্য দিনের দ্বিধা। হৃদয়ের কি অদ্ভুত দ্বৈরথ, কি অবিচল দ্বিধাদের আনাগোনা । একই বুকে বিসর্জন আর আরাধনার ব‍্যাকরণ। অথচ অসামান্য গণিত জানার পরও আমি বারবার শূন্য হয়ে যাই তোমার চোখের দুর্বোধ্য সমীকরণে, বুঝে যাই,  কিছু সমীকরণ মিলিয়ে ফেলাই পরাজয়...।  মাঝেমাঝে নিজেকে পাখির  মতো মনে হয়। মনে হয়, আমার সামনে দিগন্ত বিস্তৃত খোলা আকাশ, দরজা জানালা খোলা, চাইলেই উড়ে যেতে পারি, কিন্ত আমি স্বাধীনতা ভুলে তোমার কাছে শৃঙ্খলিত রই, স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, অন‍্যের বিনা প্ররোচনায়।  কখনো কখনো এই শহরের সমস্ত কোলাহল থেমে গেলেও আমার ভেতরে তোমাকে নিয়ে এক সমুদ্র শব্দ জেগে থাকে।  তুমি বিজলীলতার মতো মেঘের আড়ালে হারিয়ে যেয়ো না, তোমার আলোয় আমার  পৃথিবী আলোকিত হয়, তোমার আলো নিভে গেলে আমার গোটা পৃথিবী আঁধারে ঢাকে। তখন গান শুনি, ধ্রুপদী সব গান, ইন্দ্রাণী সেনের কন্ঠে ‘কেউ বলে ফাল্গুন, কেউ বলে পলাশেরও মাস…’ কিংবা  …এর কন্ঠে  ‘তারা দিয়ে সাজিও না আমার আকাশ, আঁধার আমার ভালো লাগে…’র মতো ধ্রুপদী গান!


- বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এর ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]