প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৭ পিএম (ভিজিট : ১৫২)

সংগৃহীত ছবি
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর দাফনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর নানা টানাপোড়েন শেষে শনিবার গভীর রাতে পিরোজপুরে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে তাঁকে দাফন করা হয়।
মানিক পশারীর মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন এবং পিরোজপুরে তাঁর দাফন সম্পন্ন করতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রানা।
সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি লেখেন, একাত্তরের রণাঙ্গনের এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কবর দিতে বাধা সৃষ্টি করেছে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। হারিকেন জ্বালিয়ে সেই আলোতে তাঁর মেয়ে নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে বাবার কবর তৈরি করেছেন।
সোহেল রানা আরও লেখেন, আগের কবরটি স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে। বর্তমানে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি সরকার পরিচালনা করছে বলে দাবি করা হলেও এ ঘটনার মধ্যে তার কোনো আলামত দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে সোহেল রানা লেখেন, “সরকারের কাছে এর সঠিক জবাব চাই।”
নিজের উপলব্ধি তুলে ধরে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তাঁরা হয়তো ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “নইলে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ কোনটাই তো দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।”
পোস্টের শেষাংশে সোহেল রানা লেখেন, “না ফেরার দেশে চলে যাবার আগে এমনি ধরনের সংবাদ আমার মত অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তক্ষরণ করে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষীয় শক্তি সবাই জেগে ওঠো। এবার আর ক্ষমা নয়।”