প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০০ পিএম (ভিজিট : ২৩২)

সংগৃহীত ছবি
দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মূর্তিপূজায় অংশ নেওয়া, দুর্গাদেবীর প্রশংসা করা কিংবা পূজার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশকারী মুসলিম রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের তওবা করে ঈমান নবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের রহমতিয়া জামে মসজিদে জুমার বয়ানে তিনি এ আহ্বান জানান।
মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন বলেন, ইসলামের মৌলিক আকিদা অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা এক ও অদ্বিতীয় এবং ইবাদত ও উপাসনার একমাত্র উপযুক্ত সত্তা। ইসলামে মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ এবং শিরককে গুরুতর গুনাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো মুসলমান জেনে-বুঝে মূর্তিপূজাকে ধর্মীয় উপাসনা হিসেবে গ্রহণ, সমর্থন কিংবা এর সঙ্গে উপাসনাগত একাত্মতা প্রকাশ করলে তা ইসলামের বিশ্বাস ও আকিদার পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজার মন্দিরে মূর্তিকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় উপাসনার সঙ্গে মুসলমানদের আকিদার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, জানমালের নিরাপত্তা ও উপাসনালয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে নিরাপত্তা ও সৌজন্য প্রদর্শনের নামে মূর্তিপূজার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কিংবা সেই উপাসনাগত বিশ্বাসের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করাকে ইসলাম সমর্থন করে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মুফতি মহিউদ্দিন বলেন, যারা দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে গিয়ে মূর্তির সামনে উপাসনামূলক সম্মান প্রদর্শন করেছেন, বক্তব্যে দুর্গাদেবীর ক্ষমতার কথা বলেছেন কিংবা মূর্তিপূজার ধর্মীয় বিশ্বাসকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের নিজেদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড শরিয়তের আলোকে পর্যালোচনা করা উচিত।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কারও কর্মকাণ্ডে ঈমানের পরিপন্থী বিশ্বাস বা শিরকের সমর্থন প্রকাশ পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি যোগ্য আলেমদের পরামর্শ নিয়ে ঈমান নবায়নের জন্য কালেমা পাঠ করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সুবিধা কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অজুহাতে মুসলমানদের ঈমান ও আকিদার প্রশ্নে আপস করা উচিত নয়। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সীমারেখা অক্ষুণ্ন রেখেও সম্প্রীতি বজায় রাখা সম্ভব। অন্য ধর্মের উপাসনায় একাত্মতা প্রকাশ না করেও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান দেখানো এবং তাঁদের অধিকার রক্ষা করা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।