প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৪ পিএম (ভিজিট : ১৫৯)

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার ও ৮৪ জন তরুণ-তরুণীকে আটকের ঘটনায় তাঁকে পুলিশ সদর দপ্তরের হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ পদায়ন করা হয়।
এর আগে সোমবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পিওএইচএস-১ হাউজিংয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পাশে অবস্থিত আড়াইতলা ভবনটিতে অভিযান শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলা অভিযানে ৫৮ জন তরুণ ও ২৬ জন তরুণীসহ মোট ৮৪ জনকে আটক করা হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম ও উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবির জানান, অনলাইন মার্কেটপ্লেস ‘এয়ারবিএনবি’র মাধ্যমে বাড়িটির কক্ষগুলো ভাড়া দেওয়া হতো। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও অবৈধ ডিজে পার্টির আয়োজন চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অনলাইনে বুকিংয়ের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ-তরুণীরা এসব আয়োজনে অংশ নিতেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আয়োজন থেকে পাওয়া আয়ের ৭০ শতাংশ পেতেন বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির। বাকি ৩০ শতাংশ পেতেন তাঁর নিযুক্ত কো-হোস্ট ও কর্মীরা।
এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল জহির বলেন, তিনি মূলত জায়গা ভাড়া দিয়েছেন, অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কাউকে ভাড়া দেননি। চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও কো-হোস্টদের ৩০ শতাংশ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ অর্থ তিনি পেয়ে থাকেন।
তাঁর দাবি, বাড়ির মালিকের পক্ষে ভাড়াটেদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা কিংবা তাঁদের সব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত থাকা সম্ভব নয়। ভাড়াটেদের নিয়মকানুন জানিয়ে দেওয়া হলেও তাঁরা সেখানে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ির মালিকের ওপর বর্তায় না।
এ সময় যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না করে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করলে মানুষের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।