প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম (ভিজিট : ২১২)

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বেড়াতে এসে আবাসন সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত পর্যটক। হোটেল-মোটেলে কক্ষ না পেয়ে অনেক পর্যটককে শেষ পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে রাত কাটাতে হচ্ছে। অন্যদিকে, আবাসন সংকটের সুযোগে হোটেলকক্ষে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পর্যটকদের অভিযোগ, যে কক্ষের ভাড়া ২ হাজার টাকা, সেই কক্ষের জন্যই চাওয়া হচ্ছে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাতে কক্সবাজারে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে হতাশ পর্যটকেরা। একদিকে থাকার জায়গা না পেয়ে চরম দুর্ভোগ, অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ—সব মিলিয়ে অনেকের কাছে আনন্দের ভ্রমণ পরিণত হচ্ছে ভোগান্তিতে।
অভিযোগ রয়েছে, পর্যটকের আগমন বাড়লেই আবাসনসহ বিভিন্ন সেবার মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। আর এই সুযোগে সর্বত্রই চলছে গলাকাটা বাণিজ্য! পর্যটকদের অভিযোগ, বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারে পর্যটকদের এমন দুর্ভোগ পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। পর্যটকের চাপ সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি, হোটেলকক্ষের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটকদের নিরাপদ আবাসন, সহনীয় ভাড়া এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প ভাবমূর্তি সংকটে পড়তে পারে।
পর্যটকদের প্রশ্ন—বেড়াতে এসে যদি বালিয়াড়িতে রাত কাটাতে হয়, আর একটি কক্ষের জন্য দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া গুনতে হয়, তাহলে পর্যটন নগরীর ব্যবস্থাপনা কোথায়? সর্বত্র চলা এই গলাকাটা বাণিজ্য বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কবে দৃশ্যমান হবে?