প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৬ এএম (ভিজিট : ৭৭)

সংগৃহীত ছবি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি। তাঁর দাবি, গত জুলাইয়ে প্রয়াত বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন মোজতবা।
গত সপ্তাহে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাত ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন মোজতবা খামেনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। বাবার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনিকে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এরপর থেকে তিনি কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। তাঁকে কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বা সংবাদমাধ্যমে দেখা যায়নি।
মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা প্রসঙ্গে আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত সুস্থ আছেন এবং সুন্দরভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন। আমাদের প্রেসিডেন্টও জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তাঁর সাত ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে। আমার কয়েকজন বন্ধুও সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁরা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি শতভাগ সুস্থ এবং অত্যন্ত ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।’
বাবার জানাজায় মোজতবা অনুপস্থিত ছিলেন—এমন দাবি নাকচ করে ইলাহি বলেন, নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার কারণে তিনি গণমাধ্যম ও জনসমক্ষে আসছেন না। তবে বাবার শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন এই কূটনীতিক।
ইলাহির ভাষ্য, ‘ওই সময় আমি ইরানেই ছিলাম। তাঁর দুই ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। সেখানে মোজতবা খামেনিও উপস্থিত ছিলেন।’
তিনি আরও দাবি করেন, মোজতবা মাঝেমধ্যে রাতের বেলায় রাস্তায় বের হন এবং ইরানের জনগণের সঙ্গে বিভিন্ন মিছিলেও অংশ নিয়েছেন।
ইরানের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, আঘাত থেকে সেরে ওঠার পাশাপাশি নিরাপত্তার কারণে আড়ালে থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন মোজতবা খামেনি। দৈনন্দিন নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব শীর্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দলের হাতে দেওয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব তাঁর কাছেই রয়েছে।
কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় মোজতবা প্রকাশ্যে উপস্থিত হওয়া এড়িয়ে চলছেন। তবে তিনি নিয়মিত শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।