মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ● ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা   সৌদি আরবে হামলা হলে পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিরক্ষার ঘোষণা পাকিস্তানের   জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা   আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যে টিআইবির নিন্দা, অপসারণের দাবি   ইসরায়েলে ভোটগ্রহণ, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে নেতানিয়াহু   ‘শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ করতে হবে’, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা নিয়ে নাহিদ ইসলামের ক্ষোভ   অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘অর্ণব’, ৪ সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত   
ইসরায়েলে ভোটগ্রহণ, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে নেতানিয়াহু
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম   (ভিজিট : ৫৩)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ইসরায়েলে আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা স্থানীয় সময় রাত ১০টা পর্যন্ত চলার কথা। এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছেন দেশটির দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলা, গাজায় যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার প্রেক্ষাপটে ভোটাররা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের মূল্যায়ন করছেন।

তবে ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা এই প্রধানমন্ত্রী সহজে হার মানার মানুষ নন। প্রায় ১৯ বছর ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি এখনো শক্তিশালী। দেশটির বিভক্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থার কারণে সরকার গঠনের দৌড়ে তাঁর এগিয়ে থাকার সুযোগ রয়েছে।

জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও ডানপন্থী মিত্রদের সঙ্গে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপত্তাকেন্দ্রিক রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত আইজেনকটের ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী উভয় শিবিরেই সমর্থক রয়েছেন।

নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহু যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন।

রোববার নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ক্ষমতায় থাকলেই ইরানের হুমকি চূড়ান্তভাবে দূর করতে ট্রাম্প আবারও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, আইজেনকট নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘ভয় ছড়ানো, মিথ্যা ও হুমকিনির্ভর প্রচারণা’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, জনগণ যাকেই নির্বাচিত করুক না কেন, ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতায় কাজ করবেন।

সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুকে আবারও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে পশ্চিমা কয়েকটি দেশ তাঁদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে জনমত জরিপে বেন-গভিরের ‘জিউইশ পাওয়ার’ পার্টির সমর্থন বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট কারও জন্যই ক্ষমতায় যাওয়ার পথ পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো পক্ষ সরকার গঠনের মতো জোট তৈরি করতে ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন নেতানিয়াহু।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর দেশটি সবচেয়ে অস্থির সময়গুলোর একটির মধ্য দিয়ে নির্বাচন করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার ক্ষত, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকারের নীতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

তবে নেতানিয়াহুর ১৮ বছর বয়সী সমর্থক নফ গাবাই মনে করেন, ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করা ঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য নেতানিয়াহুই সঠিক ব্যক্তি।’ গাবাই আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহু সবচেয়ে ভালোভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর জবাবে গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ইসরায়েলি হামলায় সেখানে ৭৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপরও বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইসরায়েল। ইরানের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলার পর ২০২৫ সালে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ১২ দিনের বিমান অভিযান চালানো হয়। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয়।

আইজেনকট বলেছেন, ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারকে যেকোনো উপায়ে ইরানকে সামরিক পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে কূটনৈতিক সমঝোতার পথও খোলা রাখার কথা বলেছেন তিনি।

ইসরায়েলের অধিকাংশ ইহুদিপ্রধান রাজনৈতিক দলের মতো আইজেনকটও ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শান্তি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের বিরোধী।

তবে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার সমালোচনা করেছেন তিনি। ২০২৩ সালের পর থেকে এ ধরনের সহিংসতা বেড়েছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। নেতানিয়াহুর জোটসঙ্গী বেন-গভির ও স্মোট্রিচের বিরোধিতাও করছেন আইজেনকট।

লিকুদ পার্টির শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও নেতানিয়াহুর প্রতি হতাশা বাড়ছে। তাঁর বিরোধীরা ভোটারদের সমর্থন আদায়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার চালাচ্ছেন। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির মামলাতেও লড়ছেন নেতানিয়াহু, যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটার উপস্থিতি বেশি হলে জোট গঠনের জটিল হিসাব আইজেনকটের পক্ষে যেতে পারে। ইসরায়েলের নাগরিক হলেও তাঁদের জাতিগত শিকড় ফিলিস্তিনে।

আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন আইজেনকট। তাঁর যুক্তি, এসব দলের সঙ্গে মূল্যবোধের মিল নেই। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আরব দলগুলো আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সংখ্যালঘু সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে।

ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শালোম হার্টম্যান ইনস্টিটিউটের আমোৎস আসা এল বলেন, ‘আমার ধারণা, দুই পক্ষের যেকোনো একটির সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে। বিপুল ব্যবধানে কেউ জিতবে না।’









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]