
সংগৃহীত ছবি
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরদিনই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে এসেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান তিনি।
আদালত প্রাঙ্গণে গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছেন পরীমনি। এ সময় তার চারপাশে নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীদের অবস্থান করতে দেখা যায়। কালো পোশাক পরা ১১ জন নিরাপত্তারক্ষী তাকে ঘিরে রাখেন। এ ছাড়া সাধারণ পোশাকে আরও কয়েকজনকে সেখানে দেখা গেছে। নিরাপত্তারক্ষীরা আশপাশে মানুষের চলাচলও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করছেন।
পরীমনি আদালতে এসেছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখতে আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন অনেকে।
এদিকে, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমানের আদালতে মামলার শুনানি হওয়ার কথা জানিয়েছেন পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী।
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় বুধবার পরীমনির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন।
বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির না হয়ে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি।
তবে এ আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল। তিনি পরীমনির জামিন বাতিলের আবেদন জানিয়ে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে বারবার সময়ের আবেদন করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
পরে আদালত আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন নাকচ করে পরীমনির জামিন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আদালতে মামলাটি করেন। অভিযোগ তদন্তের জন্য আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন।
২০২৩ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মনির হোসেন আদালতে পরীমনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
ওই বছরের ১৮ এপ্রিল আদালত দুই আসামিকে ২৫ জুন হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। নির্ধারিত দিনে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তারা।
গত বছরের ২৬ জানুয়ারি পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জুনাইদ। সেদিন পরীমনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
পরবর্তী সময়ে ২৭ মার্চ অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন আবেদন করেন পরীমনি। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নবম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাজ্জাদুর রহমান খান আবেদনটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মামলার বিচার কার্যক্রম চলতে কোনো বাধা নেই বলে আদেশ দেন আদালত।