প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৬ এএম (ভিজিট : ৬৪)

সংগৃহীত ছবি
কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থী নিপীড়ন ও অনৈতিক আচরণ প্রতিরোধে মনিটরিং সেল, অভিযোগ জানানোর হটলাইন এবং শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট মাদরাসার অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল হতে পারে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
বিবৃতিতে সংগঠনটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনৈতিক আচরণ কিংবা শিশু নিপীড়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়। যেকোনো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন থেকে সুরক্ষা দিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ দেশের ছয়টি কওমি মাদরাসা বোর্ড এবং এসব বোর্ডের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি মাদরাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠন করতে হবে অথবা আগে থেকে থাকা কমিটিকে সক্রিয় রাখতে হবে। শিক্ষার্থী নিপীড়ন কিংবা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি মাদরাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন চালু করতে বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো মাদরাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি না থাকলে, কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকলে কিংবা অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।
হেফাজতের নেতারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ লক্ষ্যে স্কুল ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অনৈতিক আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বা আপস করা যাবে না।
শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন হেফাজতের নেতারা।