প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম (ভিজিট : ১৪৮)

সংগৃহীত ছবি
পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দাফন ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগের পর প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পুলিশি নিরাপত্তায় রাত ২টার দিকে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশের সহায়তায় মানিক পশারীর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। পরে তাঁর স্ত্রী, মেয়ে, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই কবর খুঁড়ে দাফনের কাজ শেষ করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক অসুস্থতায় দীর্ঘদিন ভোগার পর ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে মারা যান। শনিবার দুপুরে তাঁর মরদেহ পিরোজপুরে নেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য মরদেহটি সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে সেখানে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে বাধা দেন। সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী হওয়ায় তাঁর দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানে আপত্তি জানানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ মরদেহটি জেলা পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায়। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম জানান, গার্ড অব অনার দেওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহ হস্তান্তর না করে কিছু সময় পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়।
পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতি ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় কোনো বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন মানিক পশারী।