
সংগৃহীত ছবি
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন এলাকায় পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে পবিত্র এই দুই নগরীকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, এ অভিযোগ ‘বড় ধরনের মিথ্যাচার’।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পড়েছে।
সৌদি জেনারেল ডিরেক্টরেট অব সিভিল ডিফেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, মক্কা আল-মোকাররমা ও মদিনা আল-মুনাওয়ারার দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়েছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ মক্কার বাইরের ওয়াদি মুগামাস, জেদ্দার আল-নুজহা, তাইফের ওয়াদি জলিল এবং রাবিগ এলাকার একটি জনমানবহীন স্থানে পড়েছে।
তবে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে হুথিরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, সৌদি পক্ষ হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা ও মদিনার মতো স্থানে হামলার যে প্রচারণা চালাচ্ছে, তা ‘বিরাট ও জঘন্য মিথ্যাচার’।
এর আগে শনিবার সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের চারটি প্রদেশে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করে। এর মধ্যে মক্কা অঞ্চলও ছিল। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে হুথিরা দাবি করে, শুক্রবার ও শনিবার সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তারা। তাদের দাবি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল তিনটি বিমানবন্দর, দুটি তেল স্থাপনা, একটি পাইপলাইন ও একটি বিমানঘাঁটি।
হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই ধাপে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া দাম্মাম ও নাজরান অঞ্চলের বিমানবন্দর, দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটি এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃত অপরিশোধিত তেলের পাইপলাইন ও তেল পাম্পিং স্টেশনেও হামলা চালানোর দাবি করে গোষ্ঠীটি।
এদিকে, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, শনিবার হুথিরা দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে কোস্ট গার্ডের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এ অঞ্চলে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুথিদের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, হুথিরা দেশটির রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।