প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১০ এএম (ভিজিট : ৫৮)

সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। শনিবারের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও দমেননি আন্দোলনকারীরা। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে দেশজুড়ে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসেই বিক্ষোভে যোগ দেন ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ। খবর আল জাজিরার।
তবে দেশটির অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক ফেডারেশন সিজিটির দাবি, সরকারিভাবে প্রকাশিত হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। প্যারিসে শুরুতে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও রাতের দিকে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।
বিক্ষোভ শুরুর আগেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, প্লাস দ্য লা বাস্তিল ও প্লাস দ্য লা নেশনের মধ্যবর্তী প্রধান সড়কে মিছিল করা যাবে না। শ্রমিক ইউনিয়নের বাইরের বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর আয়োজিত অন্য বিক্ষোভ কর্মসূচিও নিষিদ্ধ করা হয়।
বিক্ষোভের নির্ধারিত পথ বন্ধ করে দেওয়া এবং মিছিলকে শহরের এক প্রান্তে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এর প্রভাবে আরও বেশি সংখ্যায় শিক্ষার্থী রাজপথে নামতে উৎসাহিত হন।
বিক্ষোভের কারণে প্যারিসের বিভিন্ন দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। বিলাসপণ্যের দোকানগুলোর কাচের জানালা সুরক্ষামূলক প্যানেল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষীও নিয়োগ করে। পুলিশের অনুরোধে রাজধানীর অন্তত ২৪টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। ল্যুভর ও ওরসে মিউজিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও দিনভর বন্ধ ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অন্তত ১৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র জব্দের কথাও জানিয়েছে তারা।
এদিকে, আগামী ৩১ অক্টোবর নতুন করে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকারীরা। ২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজপথে নেমে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এই আন্দোলন।