রবিবার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ● ৯ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় তৃতীয় ঢাকা, বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’   বিশ্বকাপের আগে ব্যাটিং কোচ পরিবর্তন, আশরাফুলের জায়গায় সালাহউদ্দিন   সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীর দাফন, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-কন্যা   জাঁকজমক নয়, শিউলি ফুলের স্নিগ্ধতায় পরীমণির জন্মদিন উদযাপন   আজ জাপান সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য   মক্কা-মদিনার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ সৌদির, ‘মিথ্যাচার’ বলছে হুথিরা   দীর্ঘ ছুটির পর আজ খুলছে সুপ্রিম কোর্ট, বিচারকাজ শুরু দুপুরে   
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: অপরাধ, বিচার ও মরদেহের বিষয়ে জবাব চেয়েছে ঢাকা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৯ এএম   (ভিজিট : ৭০)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: অপরাধ, বিচার ও মরদেহের বিষয়ে জবাব চেয়েছে ঢাকা
সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তাঁদের অপরাধের ধরন, আদালতের রায়, বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনি সহায়তা এবং মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়েছে। তবে এখনো ওই পত্রের জবাব পায়নি বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গতকাল শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ১৯ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠক করেন জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তর করেন।

গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। জানা গেছে, বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি প্রদানের ক্ষমতার আওতায় তাঁদের এ দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে কী অপরাধে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, কীভাবে দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং বিচার চলাকালে তাঁরা আইনজীবীর সহায়তা পেয়েছিলেন কি না—এসব বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মিশনের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ছয়টি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে, দুই নাগরিকের অপরাধের বিবরণ, ঘটনার সময় ও স্থান এবং গ্রেপ্তারের তারিখ। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি, তাঁদের মরদেহ বর্তমানে কোথায় রয়েছে, সৌদি আরবে দাফন করা হয়েছে নাকি বাংলাদেশে পাঠানো হবে—এসব বিষয়েও জানতে চেয়েছে ঢাকা। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং তাঁরা নিজেরা আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে। কনস্যুলেটের চিঠিতে দ্রুত এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঢাকার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না। বিশেষ করে বিচার চলাকালে দুই নাগরিকের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে দেশটিতে আটক ও দণ্ডিত বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকা ঢাকায় পাঠায়। গত সেপ্টেম্বরের তালিকায় নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের নাম ছিল। সেখানে একজনের বিরুদ্ধে ‘ব্যভিচার’ এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কী শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা তালিকায় স্পষ্ট ছিল না।

অন্যদিকে, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে পবিত্রতা লঙ্ঘনের অভিযোগে দণ্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া অপরাধের বিবরণের মধ্যে কী সম্পর্ক রয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ কারণে অপরাধের প্রকৃতি, আদালতের রায় এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ।

১৯ অক্টোবরের বৈঠকে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি কেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, আগাম তথ্য পাওয়া গেলে বাংলাদেশ মিশন দুই নাগরিকের জন্য আইনি সহায়তার ব্যবস্থা, আপিলের সুযোগ যাচাই এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারত।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গত সপ্তাহে ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনায় তাঁরা হতাশ। সৌদি আরব থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন আদালত ও আপিল আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চলতি মাসে তাঁদের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

তবে আদালতের রায়ের অনুলিপি এবং আইনি প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব প্রায় আড়াই হাজার বন্দির একটি তালিকা পাঠায়। ওই তালিকায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশিসহ মোট ২২ জন বাংলাদেশির দণ্ডিত হওয়ার তথ্য ছিল। তবে তাঁদের সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি।

এ কারণে তালিকায় থাকা বাকি ২০ বাংলাদেশির শাস্তির ধরন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে পাঠানো কূটনৈতিক পত্রের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকার।








  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]