
সংগৃহীত ছবি
একসময় বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেট সংস্করণ ছিল ওয়ানডে। তবে সময়ের সঙ্গে এই ফরম্যাটে দলের পারফরম্যান্সে অবনতি দেখা যাচ্ছে। দেশের মাটিতে তুলনামূলক ভালো খেললেও বিদেশের মাটিতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে টাইগাররা।
সবশেষ ১৬টি অ্যাওয়ে ওয়ানডের মধ্যে ১৪টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের কাছে পরাজিত হয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
বাংলাদেশের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়ে সরাসরি সমালোচনা করতে রাজি হননি আফগানিস্তানের প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস। বরং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের প্রসঙ্গ টেনে দলটির সামর্থ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পাইবাস বলেন, ‘আমি আসলে এসব নিয়ে কথা বলতে পারছি না। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। এখানে আসার আগে তারা অস্ট্রেলিয়ায় দারুণ একটি জয় পেয়েছে, যেটি ছিল ঐতিহাসিক। কোচ হিসেবে বিভিন্ন ধাপে কাজ করতে হয়। বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন স্কোয়াড নিয়ে কাজ করতে হয়। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের জয়টা তাদের তৈরি করা বেঞ্চমার্ক ছিল।’
চার মাস বাংলাদেশের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করা পাইবাসের বক্তব্যে টাইগারদের প্রতি সহানুভূতির আভাসও পাওয়া গেছে। দলের খারাপ সময়কে ক্রিকেটের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন তিনি।
ভারতের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আফগান কোচ বলেন, ‘আমরা যখন ভারতের বিপক্ষে খেলেছি, তখনও নিজেদের সেরাটা দিতে চেয়েছিলাম। সেখান থেকেও আমরা কিছু শিক্ষা নিয়েছি। ক্রিকেট দলগুলোকে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতেই হয়।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা পাঁচ ওয়ানডেতে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের। আগের চারটি ম্যাচে আফগানদের কোচের দায়িত্বে ছিলেন জনাথন ট্রট। এবার দায়িত্বে রয়েছেন রিচার্ড পাইবাস। এ কারণে আগের ম্যাচগুলোর ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
সাম্প্রতিক ম্যাচের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে পাইবাস বলেন, ‘আগের চার ম্যাচ নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, কারণ তখন আমি এই দলের কোচ ছিলাম না। এই ম্যাচের কথা বলতে গেলে, পাওয়ারপ্লেতে মিশ্র অভিজ্ঞতা ছিল। কিছুটা বিশৃঙ্খল বোলিং হয়েছে আমাদের, পাশাপাশি দারুণ বোলিংও ছিল। ম্যাচটা আমরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। আবুধাবিতেও খেলোয়াড়দের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি বাংলাদেশকে নিয়ে সমালোচনা করতে চাই না।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের পেছনে নিজেদের বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের অবদানের কথাও তুলে ধরেন আফগান কোচ। বিশেষ করে স্পিন আক্রমণকে প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
রশিদ খানের বোলিংয়ের প্রশংসা করে পাইবাস বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে। আমাদের স্পিন আক্রমণ সামলানো বেশ কঠিন। রশিদ একজন শিকারি বোলার। তার নিয়ন্ত্রণ দুর্দান্ত। চাপের মধ্যেও সে ভালো করতে পারে। এর সঙ্গে (মোহাম্মদ) ননি ও গাজানফারও দুর্দান্ত ছিল। ফিল্ডিংয়েও আমরা ভালো করেছি। বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচটি ছিনিয়ে নিতে হয়েছে আমাদের। আমার মনে হয়, শুরুতে তারা ভালোই বল করেছিল। তবে পরে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়ে পূর্ণাঙ্গ পারফরম্যান্স দেখাতে পেরেছি।’
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ওয়ানডে ব্যর্থতা নিয়ে সরাসরি সমালোচনার পথে হাঁটেননি পাইবাস। বরং নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, কার্যকর স্পিন আক্রমণ ও উন্নত ফিল্ডিংকেই আফগানিস্তানের জয়ের মূল শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ধারাবাহিক পরাজয় ওয়ানডে ক্রিকেটে দলের প্রস্তুতি, কৌশল ও পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে।