
কেরানীগঞ্জে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর শুভাঢ্যা জোনাল অফিসকে ঘিরে বহুতল ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগের অনিয়মের অভিযোগের পর এবার সামনে এসেছে গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ। গ্রাম ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে পরিচিত শাহ আলমের বিরুদ্ধে মিটার সংযোগের কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, পুনরায় টাকা দাবি এবং রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগকারীর দাবি, মিটার সংযোগের জন্য কারও কাছ থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়ার পরও পুনরায় অর্থ দাবি করা হয়েছে। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
অনুসন্ধানে এবার সামনে এসেছে আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা খালপাড় সড়কের একটি সাড়ে ১১ তলা বহুতল ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি। ভবনটির আবেদনকারী মো. শহিদুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট গ্রাহক হিসাব নম্বর ১৯৬১০১৫। অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করেন ইলেকট্রিশিয়ান শাহ আলম। স্থানীয়দের দাবি, ভবনটির ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র এবং রাজউকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ আরও গুরুতর। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে ম্যানেজ করার কথা বলে ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগের কাজের সঙ্গে জড়িতদের মাধ্যমে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে। তবে এই অর্থ কারা নিয়েছেন, কীভাবে লেনদেন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এতে জড়িত কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটনে ভবনটির সংযোগ আবেদন, অনুমোদনপত্র, ছাড়পত্র, পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং আর্থিক লেনদেনের নথি পরীক্ষা করা জরুরি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) গোলাম কাউসার তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া আমবাগিচা এলাকার অভিযুক্ত সাড়ে ১১ তলা ভবনে কীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, তাঁর জানা মতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া এমন সংযোগ দেওয়ার কথা নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জিএম আরও জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রশ্ন উঠেছে, প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও অনুমোদন ছাড়া যদি সত্যিই বহুতল ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে কার অনুমোদনে এবং কীভাবে তা সম্ভব হলো? শুধু একজন বহিরাগত ইলেকট্রিশিয়ানের মাধ্যমে এত বড় অনিয়ম সম্ভব, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও কোনো প্রভাবশালী চক্র—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে শাহ আলমের ভূমিকা, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ইলেকট্রিশিয়ান সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি গ্রাহকরা’ শিরোনামে কেরানীগঞ্জের ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর আওতাধীন এলাকায় ইলেকট্রিশিয়ানদের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে শাহ আলম ও জাহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে মিটার সংযোগসহ বিভিন্ন সেবায় নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল।
তৃতীয় পর্ব: শাহ আলমের দাপটে জিম্মি গ্রাহকরা, বিদ্যুৎ অফিসে কি তাঁরই রাজত্ব!