যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আর্থিক শর্ত কঠোর হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ভিসার আবেদনকারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যাংক হিসাবে থাকার প্রমাণ দিতে হবে। লন্ডন ও লন্ডনের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যই বাড়ানো হচ্ছে এই মেইনটেন্যান্স ফান্ডের পরিমাণ।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অফিস) শিক্ষার্থী ভিসার আওতায় আবেদনকারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন নিয়মে লন্ডনে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩৬৯ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ২৮৮ পাউন্ড দেখাতে হবে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রতি পাউন্ডের বিনিময় মূল্য ১৬৬ টাকা ৭১ পয়সা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ যথাক্রমে প্রায় ৬১ হাজার ৫৫২ টাকা ও ৪৮ হাজার টাকা।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, লন্ডনে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার খরচ হিসেবে মাসিক ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ডের পরিবর্তে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড দেখাতে হবে। অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরে পড়াশোনার ক্ষেত্রে মাসিক অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ১৭১ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কোর্সের মেয়াদ অনুযায়ী জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর পর্যাপ্ত অর্থ ব্যাংক হিসাবে দেখাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯ মাসের খরচ হিসাব করা হবে। কোর্সের মেয়াদ ৯ মাসের কম হলে প্রকৃত মেয়াদের অর্থ দেখাতে হবে। কোনো মাসের কয়েক দিন থাকলেও সেটিকে পূর্ণ মাস হিসেবে গণনা করা হবে।
নতুন নিয়মে লন্ডনে ৯ মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোর্সের জন্য সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড দেখাতে হবে। আগে এই পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৭৬১ পাউন্ড। অর্থাৎ, বাড়তি ৩৬৯ পাউন্ড দেখাতে হবে।
অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরে একই মেয়াদের কোর্সের জন্য আগে ১০ হাজার ৫৩৯ পাউন্ড দেখাতে হতো। নতুন নিয়মে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড। এতে অতিরিক্ত ২৮৮ পাউন্ড দেখাতে হবে।
জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি প্রথম শিক্ষাবর্ষের বকেয়া টিউশন ফিও ব্যাংক হিসাবে দেখাতে হবে। এই ফির পরিমাণ শিক্ষার্থীর ‘কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ’ (সিএএস) নথিতে উল্লেখ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের আবাসনের জন্য কোনো শিক্ষার্থী অগ্রিম অর্থ জমা দিয়ে থাকলে, তা জীবনযাত্রার ব্যয় হিসেবে দেখানো অর্থ থেকে বাদ দেওয়া যাবে। তবে নতুন নিয়মে এ ক্ষেত্রে ছাড়ের সর্বোচ্চ সীমা ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড করা হয়েছে।
ভিসার আবেদন করার আগে টানা অন্তত ২৮ দিন প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা রাখার শর্ত অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে এই ২৮ দিনের শেষ দিনটি অবশ্যই ভিসার আবেদন করার তারিখের আগের ৩১ দিনের মধ্যে হতে হবে।
যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে করা কিছু স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রেও নতুন আর্থিক শর্ত প্রযোজ্য হবে।
তবে কোনো শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করার আগে অন্তত ১২ মাস বৈধ অনুমতি নিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে থাকলে, সাধারণত তাকে জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ দেখাতে হবে না।