
সংগৃহীত ছবি
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এ দুই বিষয়ে মোট ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে সম্মিলিত পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। বাকি ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইংরেজিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্য যেকোনো বিষয়ের তুলনায় বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আইসিটি। এ দুই বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলাফলেও।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর গত দুই দশকে পাসের হার কখনো এত নিচে নামেনি।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭১৪ জন। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন।
যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন। সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২০ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২১ জন।
এ ছাড়া মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৮৬ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় তিনি ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।
এদিকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হয়েছেন, সেসব বিষয়ে আবার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। কোনো শিক্ষার্থী যতটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁকে শুধু সেই বিষয়গুলোতেই পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।