প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ এএম (ভিজিট : ৩৪)

সংগৃহীত ছবি
স্পেনের তোলেদো অঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। একই সঙ্গে রেল নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও স্পেনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু পর মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী রেলপথে মোরাসহ ও অর্গাজ শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় রেনফে ও ইরিও পরিচালিত দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
দুর্ঘটনার সময় ট্রেন দুটিতে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের পরপরই ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে কাজ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে একটি খাদের মধ্যে ট্রেনের বগি কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ৫৪ বছর বয়সী যাত্রী জেসুস জেরোনিমো স্পেনের সংবাদমাধ্যম এল পাইসকে জানান, সংঘর্ষের সময় যাত্রীরা ট্রেনের ভেতরে ছিটকে পড়েন। প্রথমে তাঁদের মনে হয়েছিল, ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে। পরে বাইরে বেরিয়ে তাঁরা ট্রেনের বগি কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। সেখানে অনেক আহত মানুষ ছিলেন এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তদন্তে রেল নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর ওই রেলপথে চলাচল ব্যাহত হয়েছে। একদিকে উদ্ধারকাজ চলছে, অন্যদিকে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা ও দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কী কারণে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। কারিগরি ত্রুটি, পরিচালনাগত সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তদন্ত শেষ হলে তা স্পষ্ট হতে পারে।