বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ১২ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: ‘সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না, ছোবল দিয়ে মেরে ফেলবে’: আওয়ামী লীগকে শফিকুর রহমান   কক্সবাজারে ১৪ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন   গ্রিড বিপর্যয়ে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, অন্ধকারে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালের বহু এলাকা   ভারতের অন্ধ্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ আঘাত, বাতাসের গতি ১৫০ কিমি   মানিক পশারীর দাফনে বাধা, জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে সদস্যের তদন্ত কমিটি   দুই হাত নেই, পা দিয়ে লিখেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর বিউটি   নির্বাচনে হারলেও যেভাবে আরও কয়েক মাস ক্ষমতায় থাকতে পারেন নেতানিয়াহু   
নির্বাচনে হারলেও যেভাবে আরও কয়েক মাস ক্ষমতায় থাকতে পারেন নেতানিয়াহু
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৬ এএম   (ভিজিট : ৬৯)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে বিরোধী জোট বেশি আসন পেলেও দ্রুত ক্ষমতা ছাড়তে নাও হতে পারে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে। নতুন সরকার গঠনে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এ সময়ে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের হাতেই থাকতে পারে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ফেলো ইয়োসি মেকেলবার্গ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইউরোনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনের পরদিনই ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠিত হবে না। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, যার মধ্যে সামরিক অভিযান অনুমোদনের ক্ষমতাও রয়েছে। এতে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। ওই হামলার পর থেকে প্রায় তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধ, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এবারের নির্বাচনকে এক ধরনের গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ জনমত জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট কেউই ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি।

এ পরিস্থিতিতে বিরোধীরা বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হতে পারে। আর তত দিন নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

ইসরায়েলের নির্বাচন শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে এমন জল্পনাও রয়েছে।

মেকেলবার্গের মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে সংঘাত শুরুর সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইসরায়েলের নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দুই দেশের নির্বাচনের ফলাফল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আবার শুরু হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

তিনি মনে করেন, বিরোধীদের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরতার নীতি পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক স্বার্থ সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

মেকেলবার্গ বলেন, নেতানিয়াহুর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তার নীতির সঙ্গে দুর্নীতির বিচার এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার বিষয়টি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন সংকট তৈরির সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইসরায়েলে সরকার পরিবর্তন হলে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং প্রতিবেশী লেবাননের বিষয়ে দেশটির নীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। মেকেলবার্গের ধারণা, বিরোধীদের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এবং লেবাননের সঙ্গে নিরাপত্তাবিষয়ক সমঝোতা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে নতুন সরকারে কোন কোন দল থাকবে, তার ওপর নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা অনেকাংশে নির্ভর করবে। ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো সরকারে যুক্ত হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রশ্নে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

মেকেলবার্গ সতর্ক করে বলেন, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রাতারাতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে দখলদারির পরিস্থিতি শিথিল করা এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

তার মতে, নতুন সরকার এসব মতপার্থক্য কতটা সামাল দিতে পারবে, তার ওপরই ইসরায়েলের আঞ্চলিক নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নির্ভর করবে।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]