বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ১২ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: ‘সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না, ছোবল দিয়ে মেরে ফেলবে’: আওয়ামী লীগকে শফিকুর রহমান   কক্সবাজারে ১৪ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন   গ্রিড বিপর্যয়ে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, অন্ধকারে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালের বহু এলাকা   ভারতের অন্ধ্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ আঘাত, বাতাসের গতি ১৫০ কিমি   মানিক পশারীর দাফনে বাধা, জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে সদস্যের তদন্ত কমিটি   দুই হাত নেই, পা দিয়ে লিখেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর বিউটি   নির্বাচনে হারলেও যেভাবে আরও কয়েক মাস ক্ষমতায় থাকতে পারেন নেতানিয়াহু   
গ্রিড বিপর্যয়ে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, অন্ধকারে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালের বহু এলাকা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫০ এএম   (ভিজিট : ৮৯)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

 দেশে মঙ্গলবার বড় ধরনের বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যয় ঘটেছে। দুপুরে গ্রিডে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় দেশের ১০টির বেশি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যায় ৫ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি।

দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এ বিপর্যয় শুরু হয়। দুপুর ২টার পর গ্রিড পুনরায় চালু হলেও রাত ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত সারা দেশে ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং ছিল।

তবে কী কারণে এ বিপর্যয় ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বিদ্যুৎ বিভাগ। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

যুগান্তরকে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

২০১৮ সালে দেশে সবচেয়ে বড় গ্রিড বিপর্যয় বা ‘ব্ল্যাকআউট’ ঘটেছিল। মঙ্গলবার আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিলেও দ্বৈত সার্কিট লাইনের কারণে ২০১৮ সালের মতো পুরো দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েনি।

পিজিসিবি ও পিডিবির কর্মকর্তাদের ধারণা, মেঘনাঘাট-হরিপুর ও ভুলতা লাইনে কোনো সমস্যার কারণে দুপুর সাড়ে ১২টার পর বিপর্যয়ের সূত্রপাত হতে পারে। এ পরিস্থিতি দুপুর ২টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তবে গ্রিড পুনরায় চালুর পর নতুন করে কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি বলে জানিয়েছে পিজিসিবি।

বিপর্যয়ের সময় ৪০০ কেভি গ্রিডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত একাধিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে মেঘনাঘাটের ৭০০ মেগাওয়াটের জেনা বিদ্যুৎকেন্দ্র, সামিটের ৩৩৫ মেগাওয়াটের কেন্দ্র, চট্টগ্রামের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এসএস পাওয়ার, পটুয়াখালীর ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের আরএনপিএল, সামিট বিবিয়ানার ৩৩৫ মেগাওয়াটের কেন্দ্র, বিবিয়ানার ৪০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র এবং সিরাজগঞ্জের ৪০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রসহ আশুগঞ্জের কয়েকটি ইউনিট।

রাত ৮টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রের মধ্যে আরএনপিএলের একটি ও বিবিয়ানার একটি ইউনিট চালু করা সম্ভব হয়েছিল। রাতের মধ্যে বাকি কেন্দ্রগুলো চালুর চেষ্টা চলছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোন গ্রিড লাইন প্রথম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তা জানতে সংশ্লিষ্ট লাইনগুলোর লগশিট বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মেঘনাঘাট এলাকার গ্রিড লাইন অতিরিক্ত চাপে পড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

পিজিসিবির কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মেঘনাঘাটের পর আশুগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রিড লাইন বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত ১০টির বেশি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে।

তবে দ্বৈত সার্কিট লাইনের কারণে সারা দেশের গ্রিড ব্যবস্থা একযোগে বন্ধ হয়ে যায়নি। ২০১৮ সালের বিপর্যয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক দিনেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

মঙ্গলবারের ঘটনা তদন্তে পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এর বাইরে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকেও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]