প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ এএম (ভিজিট : ৬৭)

সংগৃহীত ছবি
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জয়পুরহাটের বিউটি খাতুন। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকলেও পা দিয়ে লিখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। এবার বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বিউটি। বিচারক হিসেবে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার প্রত্যন্ত শিবপুর গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম বিউটির। জন্মের পর থেকেই দুই হাত না থাকায় তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। তবে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অদম্য মনোবল ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে গেছেন তিনি।
ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল বিউটির। সেই আগ্রহ থেকেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন তিনি। একে একে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। সম্প্রতি সেখান থেকে সফলভাবে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।
শুধু লেখাপড়াই নয়, পা দিয়েই দৈনন্দিন নানা কাজ দক্ষতার সঙ্গে করতে পারেন বিউটি। শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতাও পেয়েছেন তিনি।
নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বিউটি জানান, শৈশব থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা ও মানুষের কটু কথা সহ্য করে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন তিনি। তবে কারও দয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে নয়, নিজের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়তে চান।
বিজেএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ হওয়ার মাধ্যমে মানুষের সেবা করাই এখন বিউটির প্রধান লক্ষ্য। তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে তা শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জনই হবে না, বরং শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা অনেক মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।