
সংগৃহীত ছবি
মাত্র ৬৮৫ টাকা ভাড়ায় রেলপথে ঢাকা থেকে কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন যাত্রীরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার রুটে ‘মহানগর প্রভাতী’ নামে নতুন একটি ট্রেন চালু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন ট্রেন যুক্ত হওয়ায় এ রুটে ট্রেন চলাচলের সংখ্যা দুই জোড়া থেকে বেড়ে তিন জোড়ায় দাঁড়াবে। পর্যায়ক্রমে এ রুটে সাত জোড়া পর্যন্ত ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী নতুন ট্রেন ‘মহানগর প্রভাতী’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
রেলপথমন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে ট্রেনের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও লোকোমোটিভ ও কোচের স্বল্পতার কারণে এত দিন পর্যাপ্ত ট্রেন চালানো সম্ভব হয়নি। যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে নতুন ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহানগর প্রভাতী চালুর মধ্য দিয়ে এ রুটে রেলযাত্রার সুযোগ আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, লোকোমোটিভ ও কোচের স্বল্পতা রয়েছে। এর ফলে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে প্রচুর চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আমরা পর্যাপ্ত ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করতে পারছি না। যাত্রীদের সুবিধার্থে মহানগর প্রভাতী নামে একটি ট্রেন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারে চালু করতে যাচ্ছি।’
শেখ রবিউল আলম জানান, নতুন ট্রেন চালুর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচলের সংখ্যা বেড়ে তিন জোড়ায় উন্নীত হবে। বর্তমানে এ রুটে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে সাত জোড়া পর্যন্ত ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যাত্রীদের ভ্রমণের বিকল্প বাড়বে এবং রেলপথে যাতায়াত আরও সহজ হবে।
নতুন ট্রেনটির ভাড়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ শোভন চেয়ারে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে ভাড়া লাগবে ৬৮৫ টাকা। আর এসি চেয়ারে ভ্রমণের জন্য দিতে হবে প্রায় ১ হাজার ৩১১ টাকা। ফলে যাত্রীরা নিজেদের সামর্থ্য ও পছন্দ অনুযায়ী আসন বেছে নিতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, নতুন ট্রেনটিতে আনুমানিক ৭০৬টি আসন রয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের জন্য এটি ভালো বিকল্প হবে। আরামদায়ক পরিবেশে ভ্রমণ করতে চাইলে যাত্রীরা এসি চেয়ার বেছে নিতে পারবেন। কম খরচে যাতায়াতের জন্য থাকছে শোভন চেয়ারের ব্যবস্থা।
রেলপথমন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথটি দেশের পর্যটন ও যাত্রী পরিবহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ট্রেন চালুর মাধ্যমে যাত্রীদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রেলভ্রমণকে আরও জনপ্রিয় করার সুযোগ তৈরি হবে। নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে এ রুটে যাতায়াত যাত্রীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, রেল খাতকে ঢেলে সাজিয়ে দেশে মানসম্মত রেল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি রেল অবকাঠামোর উন্নয়ন ও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘রেল নিয়ে আমাদের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের কাছে রেল যোগাযোগকে মানসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠা করার যে অঙ্গীকার ছিল, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। লোকোমোটিভ আসছে, কোচ আসছে। অনেক প্রকল্প ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো চলমান রয়েছে।’
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থাকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করার অংশ হিসেবে নতুন ধরনের ট্রেন চালুর বিষয়েও কাজ চলছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ রবিউল আলম আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কমিউটার ও আন্তনগর ট্রেন চলাচলে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। এতে যাত্রীদের যাতায়াতের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি দেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
নতুন ট্রেন চালুর মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে আরও বিস্তৃত করা হবে বলেও জানান রেলপথমন্ত্রী।