রবিবার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ● ৯ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় তৃতীয় ঢাকা, বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’   বিশ্বকাপের আগে ব্যাটিং কোচ পরিবর্তন, আশরাফুলের জায়গায় সালাহউদ্দিন   সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীর দাফন, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-কন্যা   জাঁকজমক নয়, শিউলি ফুলের স্নিগ্ধতায় পরীমণির জন্মদিন উদযাপন   আজ জাপান সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য   মক্কা-মদিনার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ সৌদির, ‘মিথ্যাচার’ বলছে হুথিরা   দীর্ঘ ছুটির পর আজ খুলছে সুপ্রিম কোর্ট, বিচারকাজ শুরু দুপুরে   
‘ভোট জালিয়াতি করলে কেন্দ্র ঘেরাও করে বসে থাকবেন’: গোলাম পরওয়ার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৯ পিএম   (ভিজিট : ১৭৩)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতির চেষ্টা করা হলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, ভোট গ্রহণ বা গণনায় অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্র ঘেরাও করে অবস্থান নিতে হবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের উদ্যোগে জেলা স্কুল বড় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে তালবাহানা করা হলে নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে দিন-রাত অবস্থান করতে হবে। কোনো ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং বা পোলিং কর্মকর্তা ভোটের সিল মারতে সহযোগিতা করলে কিংবা ভোট গণনায় দুর্নীতি দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ঘেরাও করে বসে থাকতে হবে।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা ভোট কাটব না, ভোট ডাকাতি করব না, আমরা জালিয়াতি করব না; কিন্তু কাউকে জালিয়াতি করতে দেব না।” এ সময় প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কেন্দ্র থেকে বের হতে না দেওয়ার এবং তাঁদের বেঁধে রাখার কথাও বলেন তিনি।

জনগণ যাতে নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে ভোট দিতে পারে, সে দাবি নিয়ে পরদিন নির্বাচন কমিশনারের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন বলেও জানান জামায়াতের এই নেতা।

জনসভায় ক্ষমতাসীন বিএনপির সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, গত সাত-আট মাসে দলটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আট মাস না যেতেই চারজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। বিএনপির নেতাদের বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের মধ্যে অসংগতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যদের পিস্তল নিয়ে মাঠে নামার ঘটনা ঘটছে এবং মাদক উদ্ধার হচ্ছে। সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর বাড়ির পাশ দিয়ে মাদক আসার অভিযোগও করেন তিনি। এ ছাড়া ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ এক মন্ত্রীর ছেলে ও ভাগ্নেকে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে বিএনপির বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ তোলেন তিনি।

উত্তরাঞ্চলে সারের সংকট প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে বিএনপির দলীয় লোকজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, একই পরিবারের ভাই, বন্ধু, চাচা, ভাতিজা ও শালাকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি নিয়োগের জন্য ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে প্রমাণ উপস্থাপন করা হলেও বিএনপি কোনো জবাব দিতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে একই দিন বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের লা-রোজ রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন গোলাম পরওয়ার। সেখানে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে ভোট চান তিনি। একই সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন।

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, দুপুর ২টার আগেই মাইকে প্রচার চালানো হচ্ছে, রঙিন পোস্টার ও ধানের শীষের রঙিন প্রতীক ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো এবং চিকিৎসাসেবার আড়ালে মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী।

স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসক অজানা আতঙ্ক বা ভয়ের কারণে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এসব অভিযোগ লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনে জানানো হবে জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, অভিযোগের সুরাহা না হলে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানানো হবে।

নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের অনুগত থাকে বলে তাঁদের ধারণা। তাই শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যা বাড়ালেই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। এ কারণে সেনাবাহিনীর প্রতি তাঁরা তুলনামূলক বেশি আস্থা রাখতে চান বলে জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে জনসভাটি সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমগীর।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম এবং ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।










  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]