
সংগৃহীত ছবি
গণঅভ্যুত্থান বেহাত হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণঅভ্যুত্থানের অর্জন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আবারও রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও দলীয়করণের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশের প্রচারে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থান বেহাত হয়ে গেছে। গণঅভ্যুত্থান তারেক রহমান বেহাত করেছেন। গণঅভ্যুত্থানকে আবার নিজেদের কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য রাজপথে নামা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।”
বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় বিএনপি আন্দোলনে ছিল এবং ছাত্রদলের অনেক নেতা আহত ও নিহত হয়েছেন। তবে তাঁর অভিযোগ, দলটির রাজনৈতিক নেতারা গত ১৬-১৭ বছর আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপস করে চলেছেন এবং তাঁদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নেই।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে গণভোটে সবাই মিলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিলেন। তাঁদের ভাষায়, ‘হ্যাঁ’ ভোট ছিল পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রতীক। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জুলাই সনদকে অবজ্ঞা করেছে এবং গণভোটের রায় অস্বীকার করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলামের দাবি, গণভোটের রায় অস্বীকার করে বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে দেশকে পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী এলপিজি গ্যাসের দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ নির্বাচনের পরও এর দাম ১ হাজার ২০০ টাকা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও পুলিশের দুর্বলতা থাকলেও ছাত্র-জনতা মাঠে সক্রিয় ছিল। তাঁর দাবি, তখন দেশের পরিস্থিতি বর্তমান সময়ের মতো এতটা খারাপ ছিল না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শনিবার সকালেও গায়ক আসিফ আকবরের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং এ ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও নিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ ছাড়া জ্বালানি খাতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে চলমান কার্যক্রম বন্ধ, সংসদে পাস হওয়া কর্তৃত্ববাদী আইন পরিবর্তন এবং জুলাইয়ে শহীদদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।