| শিরোনাম: |
সংগৃহীত ছবি
সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন তাঁরা। ‘তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও সুশীল সমাজ’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা ও চলমান সংকট নিরসনের আহ্বান জানানো হয়।
সাদপন্থীদের অন্য দাবিগুলো হলো—সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্ত, কাকরাইল মসজিদ ও ইজতেমা ময়দানের ন্যায্য বণ্টন অবিলম্বে নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষক মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া। বক্তব্যে বলা হয়, প্রায় ৬০ বছর ধরে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের মূলধারা টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করে আসছে। তবে গত ছয়-সাত বছর ধরে তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে ইজতেমা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, উসকানি ও বিতর্ক বেড়েছে।
এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্ব ইজতেমার আন্তর্জাতিক আবেদন আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার জন্য নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিশ্ব তাবলিগের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে ঘিরে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল, মসজিদের মিম্বর ও অন্যান্য জায়গায় বিতর্কিত বক্তব্য, অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাবলিগ জামাতের বিভাজন নিরসনে আলেমদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো পক্ষের হয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া কিংবা সরকারের ওপর একতরফা চাপ সৃষ্টি না করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ তৈরি করা সবার দায়িত্ব।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মারকাযুস সুফফাহ আল ইসলামিয়া বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মুফতি শফিউল্লাহ মাক্কী অভিযোগ করেন, সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের উদ্যোগে জুবায়েরপন্থীরা বাধা দেন। এবারও তাঁরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তৃতীয় একটি পক্ষ যুক্ত হয়ে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে।
তৃতীয় পক্ষ কারা—এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সাবেক কর্মকর্তা রেজাউল করিম হেফাজতে ইসলামের একটি অংশের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। অন্য সময় তাঁদের দেখা না গেলেও বিশ্ব ইজতেমার সময় তাঁরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাভারের মারকাজুল উলুম আশ শারইয়্যাহর জ্যেষ্ঠ মুহাদ্দিস মাওলানা গোলাম মুস্তাফা, রাজধানীর ভাটারার মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল আহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মঞ্জুরুল হক, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিউল বারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশফাক এবং ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খালেদসহ অনেকে।