বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ১২ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: ‘সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না, ছোবল দিয়ে মেরে ফেলবে’: আওয়ামী লীগকে শফিকুর রহমান   কক্সবাজারে ১৪ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন   গ্রিড বিপর্যয়ে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, অন্ধকারে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালের বহু এলাকা   ভারতের অন্ধ্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ আঘাত, বাতাসের গতি ১৫০ কিমি   মানিক পশারীর দাফনে বাধা, জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে সদস্যের তদন্ত কমিটি   দুই হাত নেই, পা দিয়ে লিখেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর বিউটি   নির্বাচনে হারলেও যেভাবে আরও কয়েক মাস ক্ষমতায় থাকতে পারেন নেতানিয়াহু   
জ্বালানি নিরাপত্তায় জাপানের ৪ হাজার কোটি টাকার সহায়তার সম্ভাবনা: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৬ এএম   (ভিজিট : ৬৩)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে জাপানের কাছ থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার জরুরি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে জাপান সফরকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

পোস্টে তারেক রহমান বলেন, জাপানে তার এই সফর বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নিজের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে তার বাবা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও জাপান সফর ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রেখেছেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের মধ্যে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুযোগে রূপান্তর করা।

জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হওয়া, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ উদ্যোগের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন ও উন্নত প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান ও কৃত্রিম উপগ্রহ প্রকৌশলে সহযোগিতা, দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরের মধ্যে উচ্চগতির রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে যৌথ সমৃদ্ধির নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগের আওতায় জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগসেতু হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং দুই দেশের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি তিনি বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং টেকসইভাবে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় জাপানের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে জাপান বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পাশে থেকেছে। দেশটির বন্ধুত্ব, উদারতা ও দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

তারেক রহমান আরও বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তার সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থবহ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পোস্টের শেষাংশে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, দেশটির সরকার ও জনগণকে আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের প্রতি আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং যৌথভাবে উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]