প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০২ এএম (ভিজিট : ৩৩)

সংগৃহীত ছবি
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পরীক্ষার হলে নকল করতে বাধা দেওয়ায় এক শিক্ষককে ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাজীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে দিনভর উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর শাস্তির দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেন সহপাঠীরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে প্রতিষ্ঠানে দশম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ফারহান মিয়া এবং ভুক্তভোগী শিক্ষক আল-আমিন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পরীক্ষার সময় ফারহানকে নকল করতে বাধা দেন শিক্ষক আল-আমিন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষককে ঘুষি মারার অভিযোগ ওঠে ফারহানের বিরুদ্ধে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা ক্লাস বর্জন করে মাঠে জড়ো হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রথমে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী ও চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তাঁরা দফায় দফায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
একপর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ ফয়সল মিয়া মুঠোফোনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা শান্ত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নির্দেশে চুনারুঘাট থানা-পুলিশ, এসআরবি, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও রিজার্ভ ফোর্সের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ বা বলপ্রয়োগ না করে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গাজীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসের বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তিনি দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
চুনারুঘাট থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ইউএনও গালিব চৌধুরী ও সহকারী পুলিশ সুপার রাফিউর রহমানের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ফারহানকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
ইউএনও গালিব চৌধুরী জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে সব পক্ষকে শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।