প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম (ভিজিট : ৯৯)

সংগৃহীত ছবি
নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের পরিবারকে ঘিরে একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে। প্রথমে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন তাঁর ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু। পরে আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের কয়েকটি আপত্তিকর ভিডিও। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের তিনটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলো নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওগুলো তৈরি করা হয়েছে। এগুলোর কোনো সত্যতা নেই।
নিজের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে এশিয়া পোস্টকে আব্দুল আজিজ বলেন, ভিডিওগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক এক প্রতিপক্ষ তাঁকে হেয় করতে উঠে পড়ে লেগেছে। ইন্টারনেটের যুগে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ধরনের ভিডিও তৈরি করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, সুনাম ও সুখ্যাতি নষ্ট করতেই এসব ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাটোর জেলা সনাকের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য দেশের আইনপ্রণেতা। তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে তা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। বিষয়টি সহ্য করা যায় না উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এ ধরনের ঘটনা প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, দলের কোনো সদস্যের নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলতি মাসে আহ্বায়ক কমিটির সভায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বিষয়টি আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দলের ঊর্ধ্বে কেউ নন। দলীয় শৃঙ্খলা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর দেওয়া বক্তব্যকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা জরুরি।