
সংগৃহীত ছবি
ইরানের তরুণ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, বিশ্বাস ও উদ্ভাবনী শক্তিতে নিজেদের সমৃদ্ধ করে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠনের পাঠানো চিঠির জবাবে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির (এমএনএ) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বার্তায় শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধ, দৃঢ় সংকল্প ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন মুজতবা খামেনি। তিনি বলেন, তরুণদের চিঠিতে প্রকাশিত দৃঢ়তা, ইচ্ছাশক্তি ও দায়িত্ববোধ নেতৃত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন তৈরি করে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের পাঠানো আন্তরিক চিঠিগুলো তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন। এসব চিঠিতে প্রকাশিত মনোভাব ইসলামের শিক্ষা, ইমাম খোমেনির আদর্শ এবং শহীদ খামেনির উত্তরাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, জ্ঞান, বিশ্বাস, আত্মশুদ্ধি এবং পবিত্র কোরআন ও আহলে বাইতের শিক্ষার গভীর জ্ঞানকে নিজেদের শক্তিতে পরিণত করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের সক্ষমতা ও মর্যাদা বাড়াতে কাজ এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
মুজতবা খামেনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইরান শিগগিরই উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে এবং ইসলামী-ইরানি সভ্যতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।
এর আগে সোমবার বিজ্ঞান ও ক্রীড়াক্ষেত্রে পদকজয়ীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় ইরানকে আরও শক্তিশালী করার একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।
ওই বার্তায় জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানবিক বিদ্যাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সাফল্যের জন্য ইরানিদের অভিনন্দন জানান মুজতবা খামেনি। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশটির অর্জনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞানী, শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের জাতীয় শক্তির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি স্টেম সেল গবেষণা, ন্যানোপ্রযুক্তি, জীবপ্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, পারমাণবিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইরানের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।
মুজতবা খামেনির মতে, জ্ঞান ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতি ও নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ইরানের অবস্থান শক্তিশালী করতেও বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।