
সংগৃহীত ছবি
প্রচার শেষ হওয়ার পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশে হিন্দু ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, আসনটির প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার হিন্দু ভোটারের সমর্থন নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে এই ভোটারদের সমর্থন পেতে তৎপর রয়েছেন প্রার্থীরা।
গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচন ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে ভোটের দিন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। যদিও নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, এ উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই।
নির্বাচনে পাঁচটি রাজনৈতিক দলের পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন লড়ছেন ধানের শীষ প্রতীকে। ১১ দলীয় ঐক্যের জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। অন্য প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলিম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হোসাইন মোহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
স্থানীয় ভোটার ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য মো. আব্দুস সালাম বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো রয়েছে। ভোটের দিনও এমন পরিবেশ বজায় থাকলে উৎসবমুখর নির্বাচন হবে বলে আশা করছেন তিনি। তাঁর মতে, গত ছয় মাসে ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি ভালো অবস্থানে রয়েছে। এসব উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভোটাররা দলটিকে বেছে নিতে পারেন।
অন্যদিকে ভোটার মো. নাজমুলের মতে, বিএনপি এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনেরও জনপ্রিয়তা রয়েছে। গত নির্বাচনেও তিনি ভালো ভোট পেয়েছিলেন। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ভোটের দিন সংঘর্ষের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। নির্বাচন কমিশন ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিকে অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৭০টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, এসআরবি ও বিজিবিসহ মোট ৫ হাজার ৩০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে সিসি ক্যামেরা। এ ছাড়া মাঠে দায়িত্ব পালন করবে এসআরবির ছয়টি মোবাইল টহল ও দুটি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ টিম। নজরদারিতে ব্যবহার করা হবে ড্রোন, ডগ স্কোয়াড, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ও বডি ওর্ন ক্যামেরা। পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে বিজিবির ২১ প্লাটুন।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনী মোতায়েন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ইউএনওকে প্রত্যাহার, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোটগ্রহণ থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি নিশ্চিত করা।
বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁদের ওপর হুমকি-ধমকি ও মারধরের ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ করেন হামিদুর রহমান আযাদ। এসব ঘটনার তথ্য, অভিযুক্তদের নাম ও আহত ব্যক্তিদের তালিকা কমিশনে লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। গতকাল নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ভোটকেন্দ্র ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। বিজিবি, এসআরবি ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি তদারকি করা হবে। এ ছাড়া বডি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ২০ আগস্ট তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২১ আগস্ট শপথ নেন। পরদিন ২২ আগস্ট আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। পরে ১০ সেপ্টেম্বর এ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।