প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম (ভিজিট : ৬৪)

সংগৃহীত ছবি
৩০ মামলার আসামি পিচ্চি রাজা গাজীপুরের বাইমাইল এলাকা থেকে নয়, রাজধানীর তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার বোন তাসলিমা, স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার।
তিনি বলেন, ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ আসামিকে নিয়ে স্কট পার্টির প্রিজনভ্যানটি কাশিমপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে রাজধানীর তাঁতীবাজারের পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে ভ্যানটি থামানো হয়। সেখানে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজনভ্যানের চাবি নেন।
এরপর পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামিয়ে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। খাইরুল বাশারকে চালকের পাশের আসনে বসানো হলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর কুমার আর প্রিজনভ্যানে ওঠেননি।
যেভাবে পালান পিচ্চি রাজা
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ওই সময় অপেক্ষমাণ একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এসআই প্রবীর কুমার গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় গিয়ে প্রিজনভ্যানে ওঠেন। এরপর স্কট পার্টির সদস্যদের নিয়ে পিচ্চি রাজার ‘বাইমাইল থেকে পালানোর’ ঘটনা সাজানো হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চালক কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে রাতে তাদের কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে পিচ্চি রাজা প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় বলা হয়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রিজনভ্যানটি গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে সঙ্গে থাকা এসআই প্রদীপ কুমার পিচ্চি রাজাকে টয়লেট করানোর জন্য গাড়ি থেকে নামান। এ সময় সুযোগ নিয়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে অন্য ২৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।